ইমরান খানের কথিত মৃত্যু নিয়ে ইন্টারনেটে গুজব

3

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে নিয়ে অনলাইলে গুজব ও জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই গুজব আরও তীব্রতা পেয়েছে ইমরানের বোনদের অভিযোগে। তারা জানিয়েছেন, ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের বাইরে রাষ্ট্রযন্ত্র কর্তৃক ‘নৃশংস’ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা।
ইমরানের তিন বোন, নোরিন নিয়াজি, আলিমা খান এবং ড. উজমা খান জানিয়েছেন, তাদের ভাই পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান ইমরানের সঙ্গে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তাদের দেখা করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। খবর বিডিনিউজের
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, দুই দিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে ইমরান খান খুব আলোচিত হয়ে উঠেছেন। এর কারণ হচ্ছে আফগানিস্তানের একটি সূত্রভিত্তিক গণমাধ্যম দাবি করেছে, আদিয়ালা কারাগারের ভেতরে ইমরানকে হত্যা করা হয়েছে। যাচাইহীন এই দাবির ভিত্তিতেই ইমরান মারা গেছেন কি না, তা নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
আফগানিস্তান টাইমসের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭২ বছর বয়সী এই নেতা হেফাজতে ‘কথিত শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন’ আর তার মৃতদেহ কারাগার থেকে বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
পরে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী দাবি করে, ইমরানকে আদিয়ালা কারাগারের ভেতরে হত্যা করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যম এক্স এ এক পোস্টে তারা অভিযোগ করে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আসিম মুনির পিটিআই চেয়ারম্যানকে হত্যার ষড়যন্ত্রটি করেছে।
এই পোস্টে হুঁশিয়ার করে বলা হয়েছে, ‘এই তথ্য যদি সত্যি হয় তাহলে এটি সন্ত্রাসী পাকিস্তানের চরম পরিণতি ডেকে আনবে। সত্যটি যে মুহূর্তে বিশ্বের সামনে উন্মোচিত হবে তখন থেকেই এর অবশিষ্ট সর্বশেষ বৈধতা ধসে পড়তে শুরু করবে’।
অভিযোগ অস্বীকার পাকিস্তানের
এনডিটিভি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অপ্রমাণিত ও যাচাইহীন এই দাবি কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাছাড়া পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তারাও আফগানিস্তান টাইমসের ওই প্রতিবেদনকে গুরুত্ব না দিয়ে বাতিল করে দিয়েছেন। তারা মে মাসে ইমরানকে হত্যার আরেকটি গুজব ছড়িয়েছিল জানিয়ে এটিকেও সে ধরনের ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।
ইমরান খান হাসপাতালে, এমন একটি পুরনো ছবিও ভাইরাল হয়েছে; কিন্তু এটিকেও জাল ছবি হিসেবে বাতিল করেছেন পাকিস্তানি কর্মকর্তারা। পরে ইমরানের বোন আলিমা খান ও তার পিটিআই সমর্থকরা পুলিশের সঙ্গে সফল আলোচনার পর আদিয়ালা কারাগারের কাছে গোরখপুর চেকপোস্টে তাদের অবস্থান কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নেন।