পেকুয়া প্রতিনিধি
পেকুয়ায় মানবপাচারকারীর কব্জা থেকে নিজ ছেলেকে ফেরত পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাজিয়া সোলতানা (কল্পনা) নামের এক অসহায় নারী। গতকাল শনিবার বিকেলে পেকুয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে রাজিয়া সোলতানা কল্পনা বলেন, আমার ছেলে নাবিদুল ইসলাম ফাহিম (বাপ্পু) কে ইতালি নেওয়ার কথা বলে পেকুয়া সদরের উত্তর মেহেরনামা এলাকার কাসিম আলীর ছেলে বাদশাহ ঢাকার ফকিরাপুলস্থ জোনাকী হোটেলে ১৫ লক্ষ টাকা গ্রহণ করে। ওই ১৫ লক্ষ টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা ডলার করে বিমানবন্দরে নিয়ে যায়। এরপর আমার ছেলে এক সপ্তাহ পর ফোন করে আমাকে ইতালি পাঠায়নি, লিবিয়ায় নিয়ে এসেছে বলে জানায়। আরেক মানবপাচারকারী আলফাজ জানায়, ছেলে ফাহিমের মা রাজিয়া সোলতানার দেওয়া ১৫ লক্ষ টাকা দালালেরা খেয়ে ফেলেছে। ইতালীতে পাঠাতে হলে আরও দশ লক্ষ টাকা দিতে হবে। এরপর তাদের সহযোগী শারমিন ও ফারুককে কবির মিয়ার ঘাটে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয় শুধুমাত্র আমার সন্তানের নিরাপত্তার জন্য।
পরে কাসিম মোবাইলে ফোন করে জানান, ‘আপনার ছেলেকে লিবিয়ার দালালচক্র আটক করে ফেলেছে। তাকে উদ্ধারের জন্য মো. ইউনুছ, কাসিম ও নুরুল হোছাইনের স্ত্রীকে ৩ লক্ষসহ মোট ১৩ লক্ষ টাকা দেই। কিন্তু মহিউদ্দিন আবারও ১২ লক্ষ টাকা দাবি করছে। এই টাকা না দিলে ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। এমনকি এ ঘটনায় মামলা করলে আমাকে, আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্যকেও হত্যা করে গুম করার হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।
পেকুয়া সদরের সিকদারপাড়ার এলাকার বাসিন্দা রাজিয়া সোলতানা কল্পনা আরো জানান, মানবপাচারকারী এই চক্রটি আমার ছেলেকে লিবিয়ায় আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করছে। এ ঘটনায় আমি মামলা করেছি। আদালত মামলাটি থানায় এফআইআর হিসেবে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। পরে থানাকেও মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করা হয়। মামলায় ১২ জনকে আসামি করা হয়। এই ঘটনায় যুক্ত আবদুর রহিম, নুর আহমদের ছেলে মো. ফারুক, বদি আলমের ছেলে মো. ইউনুছ, আবু খায়েরের ছেলে আমির হোসেন, নুর হোছাইনের স্ত্রী শামু, মো. কাসেমের স্ত্রী রুমাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
এসময় তিনি তাঁর নাড়িছেঁড়া ধন ছেলে ফাহিমকে অপহরণকারী ও দালালচক্রের কব্জা থেকে ফেরত চান এবং মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।










