ইকবাল ফারুক, চকরিয়া
চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নে ইটভাটায় অভিযানে যাওয়ার পথে ভাটামালিক, শ্রমিক ও স্থানীয় জনগণের বাঁধার মুখে পড়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা। এসময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সড়কের উপর বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকদের দেয়া ব্যারিকেড ভেঙে গন্তব্যে যেতে চাইলে ভাটামালিক, শ্রমিক ও স্থানীয় জনগণের সাথে প্রশাসনের লোকজনের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা অভিযানে যাওয়া প্রশাসনের লোকজনের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি বিজিবি ও র্যাবের দুইটি গাড়ি এবং স্কেভেটর বহনকারী একটি ট্রাক ভাঙচুর করে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। তবে তাৎক্ষনিকভাবে তাদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে আটক করে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের জিদ্দাবাজার-মানিকপুর সড়কের বাদশারটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ান-উল ইসলাম ও পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মো. জমির উদ্দিন এর নেতৃত্ব সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে চকরিয়ার মানিকপুর ও পার্বত্য লামা উপজেলার ফাইতং এলাকায় ইটভাটায় অভিযানে যান। পথিমধ্যে চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের বাদশারটেক এলাকায় ভাটামালিক, শ্রমিক ও স্থানীয় জনগণের বাঁধার মুখে পড়েন তারা। সেখানে হাজারো ইটভাটা শ্রমিক ও স্থানীয় জনগণ সড়কে ভাঙা ইট ফেলে ও ইট পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ডাম্পার গাড়ি জড়ো করে রেখে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় তারা প্রশানের অভিযানের বিপক্ষে নানা শ্লোগান দিয়ে সড়কের উপর অবস্থান নেয়। দুপুর ১২টার দিকে প্রশাসনের লোকজন ব্যারিকেড ভেঙে গন্তব্য এলাকায় যেতে চাইলে ভাটামালিক, শ্রমিক ও স্থানীয় জনগণের সাথে প্রশাসনের লোকজনের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা অভিযানে যাওয়া প্রশাসনের লোকজনের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি বিজিবি ও র্যাবের দুইটি গাড়ি এবং স্কেভেটর বহনকারী একটি ট্রাক ভাঙচুর করে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে আটক করে। পরিবেশ অধিদপ্তেরর কর্মকর্তাগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযানস্থলে যেতে না পেরে দুপুর দেড়টার দিকে সেখান থেকে ফিরে আসে।
ইটভাটা শ্রমিকদের অভিযোগ, বিকল্প কর্মস্থানের ব্যবস্থা না করে পরিবেশের দোহাই দিয়ে চকরিয়ার মানিকপুর ও ফাইতং এলাকার ইটভাটাগুলো ভেঙে ফেললে এ ভাটাকে কেন্দ্র করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করা শ্রমিক অন্তত ২০ হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে না খেয়ে থাকতে হবে। এছাড়া উন্নয়ন ও বাড়িঘর নির্মাণের উপকরণ ইট না পেলে দেশের মানুষের কষ্ট বাড়বে। এদিকে গত ১৬ নভেম্বরও পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন পার্বত্য উপজেলা লামার ফাইতং এলাকায় ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে ভাটা শ্রমিকদের বাঁধার মুখে পড়েন। পরে সেখান থেকে ফিরে চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর এলাকার তিনটি ইটভাটার চিমনি ভেঙে গুড়িয়ে দেয় ও ভাটায় তৈরি করা কাঁচা ইট নষ্ট করে দেয়। ওই দিনের ঘটনায় সরকারিকাজে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ এনে লামা থানায় মামলা দায়ের করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দবান জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ নূর উদ্দিন। এ মামলায় এনসিপি ও এবি পার্টির নেতাসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাসহ ৪০০ জনকে আসামি করা হয়।
ইটভাটা মালিক মাস্টার খাইরুল ইসলাম ও দিদারুল ইসলাম বলেন, ইতোপূর্বে ইটভাটা মালিকপক্ষের দায়ের করা দুটি রিট মামলার প্রেক্ষিতে পরিবেশ দূষণ হয় না এমন এলাকায় জায়গা শনাক্ত করে ইটভাটা পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসককে ৬ মাসের মধ্যে পদক্ষেপ নিতে সময় বেঁধে দেন হাইকোর্ট। এই নির্দেশনার আলোকে ইতোমধ্যে ইটভাটা মালিকরা বান্দরবানের জেলা প্রশাসকের সাথে একাধিকবার বৈঠক করলেও তার কোন সুরাহা মেলেনি।
এরই মধ্যে হাইকোর্টের বেঁধে দেয়া ৬ মাস সময়ের মধ্যে ৩ মাস অতিবাহিত হয়েছে। এখনো আরো ৩ মাস বাকি রয়েছে। এমতাবস্থায় জেলা প্রশাসন ইটভাটা করার উপযোগী জায়গা শনাক্ত না করে উল্টো কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে গড়ে তোলা ইটভাটাসমূহ উচ্ছেদের নামে মালিক ও শ্রমিকদের হয়রানি করে তাদের পথে বসিয়ে দিচ্ছেন।
ইটভাটা মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, হাইকোর্টের বেঁধে দেয়া সময়ের আলোকে আমরা ইটভাটাগুলো সরিয়ে নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে তিনমাস সময় চেয়েছি। ৩ মাসের ভেতরে ইটভাটা সরিয়ে না নিলে প্রশাসনের অভিযানে জেল-জরিমানা করা হলেও তা আমরা মেনে নেব। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা আমাদের সেই আবেদন আমলেই নিচ্ছেন না।
কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) অভিজিৎ দাশ বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে লামা উপজেলার ফাইতং এলাকায় ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযানে যান পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের লোকজন। এ সময় চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের বাদশারটেক এলাকায় ইটভাটার শ্রমিকদের বাঁধার মুখে পড়েন তারা। উত্তেজিত শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। এ সময় শ্রমিকদের নিক্ষেপ করা ইট পাটকেলের আঘাতে যৌথবাহিনীর দুইটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করেছে। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










