আ.লীগ ভিসা নীতি- নিষেধাজ্ঞার পরোয়া করে না : কাদের

5

পূর্বদেশ ডেস্ক

সরকার কোনো রকম নিষেধাজ্ঞা বা ভিসানীতির পরোয়া করে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডনাল্ড লুর বাংলাদেশ সফর নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সেতুমন্ত্রী কাদেরের এমন মন্তব্য আসে।
তিন দিনের সফরে গতকাল সকালেই ঢাকায় পৌঁছেছেন ডনাল্ড লু। আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠনের পর এটাই ঢাকায় তার প্রথম সফর। খবর বিডিনিউজের।
লুর সফর নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি এ নিয়ে কোনো আলোচনা করতে চাই না। রুটিন আসা আসবে, যাবে। তারা কী করছে না করছে জানি না। তারা উপরে-উপরে পাত্তা দেয় না, তলে-তলে আবার কী করে সেটা তো বলা মুশকিল।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, একজন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাকে নিয়ে বাংলাদেশ এত মাতামাতি কেন? তার প্রয়োজনে সে আসছে। তাদের এজেন্ডা আছে। সম্পর্ক যখন থাকে, সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা থাকে। তো সেটা তারা করতে আসছেন। আমরা দাওয়াত করে কাউকে আনছি না।
ডনাল্ড লুর সফরে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে র‌্যাব এবং এর সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা হবে বলে সোমবার জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।
গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ২০২১ সালের ডিসেম্বর র‌্যাব এবং এর সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
এরপর বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সাড়া মেলেনি। যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই বলে আসছে, নিষেধাজ্ঞা উঠানোর প্রক্রিয়া বেশ ‘জটিল’।
আগামীতে নতুন করে কোনো প্রকার ভিসানীতি আসতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা কোনো প্রকার স্যাংশন, ভিসানীতি এগুলো আমরা কেয়ার করি না।
নির্বাচনের আগে গতবছর যুক্তরাষ্ট্র কিছু বাংলাদেশির ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে ক‚টনৈতিক টানাপড়েন নতুন মাত্রা পায়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ‘বাধাগ্রস্ত’ করে এমন কর্মকান্ডে জড়িতদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বন্ধ করতে তারা ওই ভিসানীতি কার্যকর করেছে।
সে সময় কয়েকটি ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন টানা ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্র তাকে ‘ক্ষমতা থেকে সরাতে চায়’ বলেও এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ তোলেন।
শেখ হাসিনা আবারও বাংলাদেশের ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেন প্রশাসন এখন দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক এবং ভূ-রাজনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে।
বিএনপি তাদের সমমনাদের সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় পণ্য বর্জনের আন্দোলনে জোর দিচ্ছে- এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে সেতুমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় পণ্য বয়কটে জোর আন্দোলন এটা তাদের ব্যর্থ চেষ্টা। বিএনপির কোনো নেতাই ভারতীয় পণ্য বর্জন করবে না। কিছুদিন আগে টেস্ট কেস দেখলাম।