নিজস্ব প্রতিবেদক
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউন কর্মসূচিতে গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে তেমন সাড়া মেলেনি। তবে সকাল থেকে বিএনপি, জামায়াত ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো সক্রিয় অবস্থান নেয় নগরজুড়ে। সকাল থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশপথে মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি ও মোটরসাইকেল শোডাউনের মাধ্যমে রাজপথে উপস্থিতি জানান দেন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
এদিকে সকাল থেকে নগরজুড়ে ছিল পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর টহল। মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। সকাল থেকেই নগরের মুরাদপুর, ষোলশহর, দুই নম্বর গেট, জিইসি মোড়, কাজির দেউড়ি, অক্সিজেন ও বহদ্দারহাট মোড়ে জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের অবস্থান দেখা যায়। তারা স্লোগান, মাইকিং ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে লকডাউন ঘোষণার প্রতিবাদ জানান।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রশিবির সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মুরাদপুর থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত মোটরসাইকেল শোডাউন করে। ৫০টিরও বেশি মোটরসাইকেল অংশ নেয় এই শোডাউনে। নেতৃত্ব দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর সভাপতি তানজীর হোসেন জুয়েল এবং দক্ষিণ মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন।
তানজীর হোসেন জুয়েল বলেন, চট্টগ্রামের জনগণের জানমাল রক্ষায় আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মাঠে রয়েছি। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অরাজকতা ও নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা তা প্রতিহত করব। ছাত্রশিবির সবসময় জনগণের পাশে থেকে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
তার আগে বুধবার রাতে শিবির নগরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর শাখা কাপ্তাই রাস্তার মাথা, চকবাজার, বাকলিয়া এক্সেস রোড, চেরাগী পাহাড়, আতুরার ডিপো এবং দুই নম্বর গেট এলাকায় অবস্থানের কথা জানায়। ছাত্রশিবির মহানগর দক্ষিণ শাখা কর্নেলহাট, সাগরিকা, নয়াবাজার, বড়পোল, ছোটপোল, ফকিরহাট, সল্টগোলা ক্রসিং, ফ্রি পোর্ট, সিমেন্ট ক্রসিং, আগ্রাবাদ, দেওয়ানহাট. কদমতলী, নিউমার্কেট, টাইগারপাস, কাটগড় মোড়, নিমতলা, বাস স্ট্যান্ড এবং ফইল্লাতলী বাজারে অবস্থান নেয়ার কথা জানায়।
অন্যদিকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থান নেয়। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির কোনো কর্মসূচি ছিল না।
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহব্বায়ক ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা শওকত আজম খাজা বলেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে কোনো পাল্টা কর্মসূচি নেই। তবে ছাত্রদলের কিছু কার্যক্রম তাদের নিজস্ব উদ্যোগে সক্রিয় থাকতে পারে।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহব্বায়ক সাইফুল আলম বলেন, আমাদের কোনো কর্মসূচি ছিল না। তবে বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছিল। জনগণের জানমাল রক্ষার্থে ছাত্রদলের প্রত্যেকটা কর্মী সতর্কবস্থায় ছিল।
নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন মোড়, চান্দগাঁও, বাকলিয়া ও শাহ আমানত সেতু এলাকায় সকাল থেকে ছোট ছোট মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, গতকাল কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সারাদেশে লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করে। একইদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করেছে। আগামী ১৭ নভেম্বর (সোমবার) এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। এতে আসামি হিসেবে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।











