আসন্ন ঈদ উপলক্ষে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে জরুরি উদ্যোগ নিতে হবে

2

২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণার পর বাজারে কিছু পণ্যের দাম বাজেট পাস হবার পূর্বেই বেড়ে গেছে। সামনে কোরবানের ঈদ। ঈদ উপলক্ষে অসাধু ব্যবসায়ীরা আগাম বিভিন্ন দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ষড়যন্ত্রে প্রতিনিয়ত লেগেই আছে। বাজারে শাকসব্জি, মাছ-মাংসসহ সব ধরনের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামে চলছে অস্থিরতা। বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, বরবটি ১০০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, বেগুন মানভেদে ৬০-৮০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুর মুখি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার বাজেট ঘোষণা হলেও বাজারে তার পূর্ণ প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। তবে সিগারেটসহ কিছু কিছু দ্রব্য অকারণ বাড়তি দামে বিক্রি করা শুরু করে দিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীরা মশলার দামে অস্থিরতা তৈরি করছে। লং, এলাসি, ডালচিনি, পেঁয়াজ, রসুন, ধন্যা, জিরা, ইত্যাদি বাড়তি দামে বিক্রি শুরু করে দিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ বাড়তি দামের আশায় গুদামজাত করছে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য। এর ফলে ক্রেতা সাধারণ বাজার ব্যবসার উপর খুবই হতাশা ব্যক্ত করছে। দেশের বাজার মনিটরিং খুবই দুর্বল প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ বাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলো কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে না। অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দেশে যতটুকু আছে তাও নিষ্প্রভ করে দিয়েছে নানা কৌশল ও অজুহাত দেখিয়ে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অস্থির এলাচের বাজার। ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) সিন্ডিকেটের কাছে ভালো মানের এলাচের চেয়ে মধ্যম মানের এলাচের দাম বেশি। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী ১ থেকে ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে মসলার দাম। অথচ বাস্তব হচ্ছে দেশে মশলা আমদানিতে কোন ঘাটতি নেই। সরকারের হিসাব মতে আগামী কোরবান উপলক্ষে পর্যাপ্ত মশলা দেশে মজুদ আছে। তার পরও নানা তালবাহানা করে দেশের মশলার বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে অসাধু ব্যবসায়ীচক্র।
নিত্যপণ্যের বাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি কোরবানকে সামনে রেখে জাল নোটের অসাধু ব্যবসায়ীরা কোমর বেঁধে নামার অপেক্ষায় আছে। এদিকে জালনোট নিয়ন্ত্রণে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। জালনোট সনাক্তকরণে সংশ্লিষ্টরা নানা পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানাচ্ছেন। অনিয়ম, দুর্নীতি, গুদামজাত ব্যবসা আর সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোন কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। তরীতরকারি এবং সব্জির দাম বৃদ্ধিতে বাণিজ্যমন্ত্রী কৃষকদেরও দোষারোপ করছেন। কৃষকরা আড়ৎদার এবং মধ্যস্বত্ত¡ভোগিদের ছলনার জালে বন্দী। কৃষকরা তাদের উৎপাদন খরচ বাড়লেও পণ্যের যথাযথ মূল্য পাচ্ছে না। অথচ কৃষকদের বিক্রিত পণ্য বাজারে তিন চার গুণ অধিক মূল্যে ক্রেতাসাধারণকে ক্রয় করে খেতে হচ্ছে। দালাল, ব্রোকার, মধ্যসত্ত ভোগী যা-ই বলিনা কেন দেশের বাজার ব্যবস্থায় অস্থিরতা সৃষ্টিতে এইসব মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা একটি বড় মন্দ ভূমিকা পালন করছে। সরকারি বাজার ব্যবস্থায় এসব অসাধু চক্র, যারা দেশের দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে, তাদের নিয়ন্ত্রণে কোন নীতিমালা কার্যকর করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা কি না করছে ? বাজেটে দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার পূর্বে বাজারে আগাম বৃদ্ধি করে দিচ্ছে। ঈদ-কোরবান-পূজা উপলক্ষে চাহিদাবৃদ্ধির আগে থেকেই চড়া দামে মালামাল বিক্রি অসাধু ব্যবসায়ীদের চিরায়ত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হলো সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বাজার ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনয়নে কোন রকম কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়নের দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছে না। নিলেও তা লোক দেখানো কিংবা সাময়িক। সুনির্দিষ্ট আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের দৃঢ়তা থাকলে দেশের বাজার ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের অনুকূথাকতে বাধ্য। আমরা আশা করবো আমদানি উৎপাদন, পরিবহন, বিপণন সর্বসেক্টরে সরকার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা যথাযথ বাস্তবায়নের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। আমদানি, উৎপাদন, পরিবহন ইত্যাদি খরচ যোগ করে বাজারে দ্রব্যের সুনির্দিষ্ট দাম কার্যকর রাখতে পারলে দেশে জনবান্ধব বাজার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এমন দাবি সাধারণ মানুষের।