আ’লা হযরতের অনবদ্য কাব্য আল ইস্তিমদাদ (সাহায্য প্রার্থনা)

5

নাজিম উদ্দিন খান

আল-ইস্তিমদাদ মানে সাহায্য প্রার্থনা। হিজরি চতুর্দশ শতকের মুজাদ্দিদ আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) রচিত গ্রন্থটির পুরো নাম আল ইস্তিমদাদ আ‘লা আজইয়লিল ইরতিদাদ। গ্রন্থটি যৌথভাবে বাংলা অনুবাদ করেছেন মুহাম্মদ জিয়া নোমানী মিসবাহী (ভারত) এবং মুহাম্মদ এনামুল হক। প্রকাশনায় আল ইস্তিমদাদ ফাউন্ডেশন। প্রকাশকাল ১৭ আগস্ট ২০২৫। সম্পাদনা করেছেন তরুণ লেখক-গবেষক মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল করিম (চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম)। ‘আল-ইস্তিমদাদ’ গ্রন্থটির ওপর ‘কাশফে দ্বলালে দেওবন্দ’ নামে ব্যাখে লিখেছেন মুফতিয়ে আযম-এ হিন্দ আল্লামা মুস্তফা রেযা খান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)। ‘আল-ইস্তিমদাদ’ ইমাম আ’লা হযরতের অনবদ্য কাব্য রচনা। এ মহান মনীষীর অসাধারণ কাজ প্রতিভা এতে ফুটে উঠেছে। তাঁর রচিত কাব্য সম্ভার হাদায়িকে বখশিশ নি:সন্দেহে কাব্য জগতের এক অমূল্য সম্পদ। হাদায়িকে বখশিশের তুলনায় আল-ইস্তিমদা গ্রন্থটিও কোনো অংশে কম নয়। ভাষাশৈলী, ছন্দমালা, কাব্য বিন্যাস এবং শরিয়ত নির্ভরতার ক্ষেত্রে আল ইস্তিমদাদও হাদায়িকে বখশিশের মতো অনন্য ও ব্যতিক্রমী।
নাতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মাধ্যমে ইমাম আ’লা হযরত (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ‘আল-ইস্তিমদাদ’গ্রন্থটির সূচনা করেছেন। তারপর প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সমীপে কিছু ফরিয়াদ তুলে ধরেছেন। এরপর তৎকালীন বিকৃত-মতাদর্শী কিছু নামধারী আলেম কর্তৃক প্রিয় নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর শান মর্যাদার ওপর কটূক্তির অকাট্য জবাব দিয়েছেন। মুসলিম উম্মাহর মাঝে ফিতনা সৃষ্টির প্রবণতা দেখে আ’লা হযরত ক্ষুদ্ধ ও বিচলিত ছিলেন। উম্মাহর ঈমান আক্বিদা মজবুত করা এবং বাতিল ফিরকার ভ্রান্ত চিন্তাধারা ও লেখনীর ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করাই ছিল আ’লা হযরতের জীবন ব্যাপী সাধনা। ‘আল-ইস্তিমদাদ’যেন সত্য উন্মোচনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঠিক ঈমান আক্বিদার উজ্জ্বলতর বয়ান এতে বিবৃত হয়েছে। তেমনি বিকৃত বাতিল মতাদর্শীদের বাতুলতা ও ধূম্রজালের ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক ও সচেতন করে তুলতে ইমাম আ’লা হযরতের তীব্র লেখনী সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। ৩৬০ পঙক্তি বা শে’র রয়েছে ‘আল-ইস্তিমদাদ’কাব্যগ্রন্থে। ইমাম আ’লা হযরতের ছাহেবজাদা মুফতিয়ে আযম হিন্দ আল্লামা মুস্তফা রেযা খান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘কাশফে দ্বলালে দেওবন্দ’ তাও অসাধারণ গবেষণাধর্মীগ্রন্থ হয়ে উঠেছে বলা যায়।
শের নং ০১/০২ এরকম। ডুবি না- ওঁেয় তারাতে ইয়ে হ্যাঁ, হিলতি না ওঁয়ে জামাতে ইয়ে হ্যাঁ। কাব্যনুবাদ: ডুভো তরণী উদ্ধার করে হজরত, ঝাঁকিদার ভিত করে স্থির হজরত। সরল অনুবাদ: পাল ছেঁড়া ডুবন্ত বিস্তিতে মজবুত পাল তোলে মাঝ দরিয়া থেকে উদ্দার করে কিনারায় নোঙর করান নবীয়ে পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) । আন্দোলিত হওয়া মানবের (দ্বীন ও ঈমানের) বুনিয়াদকে হুযুর করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুস্থির করেন। মুফতিয়ে আযম হিন্দ (রহ.) বলেন, হযরত শা‘রা (আ.) এর ওপর আল্লাহর নাযিলকৃত ওহি-যা ইবনে আবি হাতিম এবং আবু নূয়াইম (রহ.) ওয়াহাব ইবনে মৃনাব্বাহ (রহ.) থেকে রেওয়ায়েত করেন, এর থেকে প্রমাণিত হয় রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তশরিফ আনয়ন গোমরাহিকে হেদায়তে, অজ্ঞতাকে জ্ঞানে, বেনামিকে সম্মানে, অখ্যাতিকে প্রসিদ্ধতায়, মুখাপেক্ষীকে প্রাচুর্যে, দরিদ্রতাকে সম্পদের পরিপূর্ণতায় এবং বিরোধিতাকে ভালোবাসায় রূপান্তর করেছে।