আমি দুষ্ট গরু রাখবো না শূন্য গোয়াল রাখবো

51

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘হঠাৎ রাস্তায় হাঁটতে চলতে আমার সাথে দেখা হয়ে যাবে। সাধারণ মানুষের মাঝে আমাকে দেখতে পাবেন। আমি কথা দিচ্ছি, আমার অফিস ও উপ-কমিশনারদের (ডিসি) অফিসের দরজা সবার জন্য সবসময় খোলা থাকবে। যে কেউ যেকোনো সময় সাক্ষাৎ করতে পারবেন। এ পাঁচটা জায়গা আমি ওপেন করে দিচ্ছি এখনই। যখনই মানুষ আসবে, তখনই দেখা হবে, যদি আমি অফিসে থাকি। যে ধরনের সহযোগিতা মানুষ চায়, আমি কমিশনার হিসেবে নিশ্চয়তা দিচ্ছি, সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। গেটে ঢোকার ক্ষেত্রে কী কী সমস্যা, সেটা আমি দেখবো, দরকার হলে গেটই রাখবো না।’
গতকাল সোমবার সকালে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনের মাল্টিপারপাস শেডে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সিএমপির এ নতুন কমিশনার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি সালাউদ্দিন মো. রেজা ও সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি তপন চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন সাংবাদিকরা।তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ সবসময় থানায় আসে, এখন থানার পুলিশ মানুষের কাছে যাবে। আমিও চেষ্টা করবো মানুষের কাছে সরাসরি যাওয়ার জন্য। আমি নিজে অন্য গাড়ি নিয়ে থানায় যাব, সাধারণ মানুষের মত থাকবো (সিভিল ড্রেসে), সঙ্গে কাউকে নিয়ে যাওয়া হবে না। যদি বডিগার্ড থাকে, তার মোবাইল আমার কাছে থাকবে।’
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যক্তির দায় কোনো সংস্থা নেবে না। আমি অন্যায় করলে সেই দায়দায়িত্ব আমার, এটা পুলিশ বাহিনীর নয়। কোনো থানার ওসি আমার আত্মীয় না। কাজে অসঙ্গতির জবাব তাদেরকেই দিতে হবে। কোনো প্রটোকল-গার্ড ছাড়াই বিভিন্ন থানাগুলোতে আমি পরিদর্শনে যাবো। আমি দুষ্ট গরু রাখবো না, প্রয়োজনে শূন্য গোয়াল রাখবো।’
কিশোর অপরাধ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘কিশোর গ্যাং নিয়ে আমি কাজ শুরু করেছি। আমি বিভিন্ন কলেজে যাব। কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে প্রোগ্রাম করবো। দু’য়েকটা প্রোগ্রাম করার পরে কলেজের সামনে যেসব ইভটিজার থাকে, তারা আর থাকবে না। অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ, আপনার সন্তান কোথায় যায়, একটু দেখেন। সে কি সারাক্ষণ বাসায় থাকবে? সে কোথায় যায়, কার সঙ্গে মিশে, তাকে সঙ্গ কারা দেয়, সেগুলো যদি পরিবারের পক্ষ থেকে একটু নজরে রাখা হয়, তাহলে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমে যাবে। সে কোনো অপকর্মের সঙ্গে জড়িত কি না, একটু দেখেন। আমি তাকে থানায় নিয়ে গেলে তো তার ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যাবে।’
সভায় এক সাংবাদিক কমিউনিটি পুলিশ কমিটিতে থাকাদের অনেকেই বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত এবং কিশোর গ্যাংসহ নানা অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ করেন। এর জবাবে সিএমপি কমিশনার সাইফুল বলেন, ‘আমি কমিউনিটি ও বিট পুলিশের সাথে যারা সম্পৃক্ত, তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। কমিটির সদস্য কারা আছেন, সেটা যাচাইবাছাই করার নির্দেশ দিয়েছি। বিতর্কিত কেউ এখানে থাকবে না। আমি ভালো মানুষদের কমিটিতে নিয়ে আসতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন থেকে কোনো থানায় ওপেন ডে-হাউস অনুষ্ঠিত হবে না। প্রতিটি থানায় চারটি করে ওয়ার্ড আছে। এলাকার লোকজন থানায় এসে কেন কথা বলবে? পুলিশ তাদের কাছে যাবে। তারা তাদের কথা পুলিশের কাছে বলবে।’
ছিনতাইয়ের ঘটনায় থানায় মামলা না নেয়ার অভিযোগও উঠে আসে সাংবাদিকদের বক্তব্যে। জবাবে তিনি বলেন, ‘ছিনতাই ঘটলে অবশ্যই মামলা নিতে হবে। আমি চাই মামলা বাড়–ক, মামলা পাঁচশ হলেও আমার কোনো সমস্যা নেই। মামলা হলে রেকর্ড থাকে। তাহলে কাজের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়।’
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখা হবে বলে জানান সিএমপি কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রমাগতভাবে প্রচার হওয়া নিখোঁজের তথ্য ‘নিছক গুজব’ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রেমঘটিত কিংবা পরিবারের সদস্যদের ওপর রাগ-অভিমান করে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে নিখোঁজ বলে প্রচার করা হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও গুজবের বিষয়ে বলা হয়েছে। আমি যোগদানের পরই এটা নিয়ে কাজ করেছি। নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, এটা আসলে সম্পূর্ণ গুজব। যাদের নিখোঁজের কথা বলা হচ্ছে, আমরা প্রত্যেকটির বিষয়ে খবর নিয়েছি, তাদের অলমোস্ট সবাই ফেরত এসেছে।’
গত ৪ জুলাই সিএমপির ৩২তম কমিশনার হিসেবে যোগ দেন মো. সাইফুল ইসলাম। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ১৯৯৫ সালে স্নাতকোত্তর করে ২০০১ সালে ২০তম বিসিএস’র মাধ্যমে তিনি সহকারি পুলিশ সুপার পদে যোগ দেন। এর আগেও তিনি সিএমপিতে উপকমিশনার হিসেবে এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।