
মিঞা মুহম্মদ জামশেদ উদ্দীন
আমার কাছে কেন জানি মনে হয়েছে, দেশ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের শাসন ব্যবস্থা ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং জনসমর্থনও দ্রæত কমে আসছে। সরকারের টালমাটাল অবস্থা চরমভাবে ভাবিয়ে তোলে। বিশেষ করে শক্তিশালী বিরোধীদল না থাকায় যা হবার তা হয়েছে; এতে সরকারেরও কোনোবিষয়ে সুস্থতা বা সুনিপুণতা থাকে না, হয়ে ওঠে সরকার একদলীয় স্বৈরশাসকরূপে। আর তখনই দেখা দেয় সরকারের দুর্বল দিকগুলো। যেমনটা টিকিয়ে থাকা বা আরো দীর্ঘমেয়াদকাল পাকাপোক্ততার-পরিকল্পনা। আর তখনি যা ঘটার ঘটে এবং বিদেশি এজেন্টগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে; সঙ্গে তারা দেশের স্পর্শকাতর ও অর্থনীতিতে ভাগ বসাতে থাকে। বর্তমানে আমাদের বন্দর নিয়ে অনুরূপ যা হচ্ছে! অতিও এসব কারণে ও ঘটনায় বিশ্বব্যাংক ভাগ বসিয়ে দেয়। হয়তো তৎকালীন সরকারের করার কিছু ছিল না; তাদের বাদপ্রতিবাদের জায়গাও ছিল না। তাদের ঘরে-বাহিরে একই অবস্থা বিরাজমান ছিল। একদিকে সংসদে শক্তিশালী বিরোধীদলের অনুপস্থিত, মাঠেও ছিলোনা শক্তিশালী বিরোধীদল। তাই বিদেশীদের দাবি-দাওয়া বা আকাঙ্খা পুরণে থাকে না আর কোন বাদসাদ। ৭/৮/২০২৪ইং চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে আমার একটি কলাম প্রকাশিত হয় দৈনিক ভোরের কাগজে। ‘বে-টার্মিনাল নির্মাণ বিশ্বব্যাংকের ঋণ পুনর্ম‚ল্যায়ন করা উচিত।’ লেখাটির সারাংশ হলো- ২৯ জুন ২০২৪ ইং চট্টগ্রাম মেগাপ্রকল্প সম্প্রসারণে বে-টার্মিনাল নির্মাণে ৬৫০ মিলিয়ন অর্থাৎ ৬৫ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। যা দেশীয় মুদ্রায় ৭হাজার ৬৩৮ কোটি ২৭ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা। বিশ্বব্যাংকের বোর্ড অব এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এই ঋণ অনুমোদন দেয়। সরকারের এ প্রকল্পের আওতায় দুটি কন্টেইনার টার্মিনাল, একটি মাল্টিপারবাস টার্মিনাল, একটি তেল ও গ্যাস টার্মিনাল উন্নয়ন প্রকল্প ছিল। তখন বিশ্বব্যাংক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বিশ্বব্যাংক বে- টার্মিনাল ও মেরিন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে অর্থায়নের প্রতিশ্রæতি দিয়েছিল, ওই প্রকল্পের অধীনে সমুদ্র স্রোত ও চরমবাবাপন্ন আবহাওয়া থেকে বন্দর রক্ষা করতে ৬ কিলোমিটার দৈঘ্যের জলবায়ু সহিষ্ণু বাঁধ নির্মাণ করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া প্রকল্পের অংশ হিসেবে বন্দর প্রবেশদ্বার, অববাহিকা ও সংযোগ চ্যানেলগুলো খনন করা হবে। এতে আরো বলা হয়, এ বে-টার্মিনালের মাধ্যমে প্যানাম্যাক্স জাহাজ মতো বড় আকারের জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে। তবে বিশ্বব্যাংকের এ প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিশ্বব্যাংক অতিতে এ ধরণের প্রকল্পের ঋণ ছাড় দিতে গিয়ে তাদের পছন্দের ঠিকাদার নিয়োগ এবং পছন্দের দেশ থেকে সরঞ্জাম কেনাকাটাতেও বাধ্যবাদকতা আরোপ করা হয়। এসব বিবেচনায় দেশের অর্থায়নে বন্দর উন্নয়ন করা, খনন করা, বে-টার্মিনাল ও কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা কঠিন ছিল না। অথচ বর্তমানে বন্দরের আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে ৪০-৫০ হাজার কোটি থেকে, এখন বন্দরের নেট আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৭০ হাজার কোটি টাকা। সৎ ইচ্ছে থাকলে বন্দরের কাঠামো ও অবকাঠামোগত এ উন্নয়ন নিজেদের অর্থায়নে করা সম্ভব। কেন জোর করে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে বিদেশীদের হাতে- প্রয়োজনে উন্নত ও আধুনিক যন্ত্রাংশ ক্রয় করা এবং দেশের অপারেটরদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্যোগ নিতে পারে। একই সঙ্গে লাগাম টানতে পারে দুর্নীতিরও। প্রয়োজনে সাঁড়াশি অভিযান চালাতে পারে যেখানে অনিয়ম আছে। সহযোগি সংস্থা হিসেবে কাস্টমর্সেও অনিয়ম ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চালাতে পারে। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ ব্যাপারে বড়ই উদাসীন। দুর্নীতির দায়ে তারা একজনকেও পাকড়াও করতে পারেন নি, যেটি তাদের কর্মে পড়ে এবং সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো উচিত ছিল, সেটিও দেখাতে পারেনি। ওইসবে তারা কোন দৃষ্টান্তমূলক প্রদক্ষেপ নিতে পারেনি। উল্টো বন্দর ইজারা দিয়ে সার্বভৌম হুমকির মধ্যে পেলে দেয়। বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল , প্রস্তাবিত লালদিয়া চর টার্মিনাল ও বে-টার্মিটালের পাশাপাশি-লাগোয়ায় অবস্থিত। চট্টগ্রাম এয়ারপোর্টে, বিমান বাহিনীর ঘাঁটি ও নৌ-ঘাঁটি একইস্থানে অবস্থিত। এসব পোর্ট বিদেশী হাতে ছেড়ে দিলে ঝুঁকিতে পড়বে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিভাগ।
অথচ এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আচরণ ও পতিত সরকারের আচরণের মধ্যে কোন সাদৃশ্য দেখা যাচ্ছে না। তাঁরা সম্ভবত দীর্ঘমেয়াদী ভাবনায় আছেন। অবশ্য তা না হলে দাতাদেশ ও পরাশক্তিধর দেশকে খুশি রাখতে তাদের কেন এসকল প্রচেষ্টা। বিদেশী পরাশক্তিধর দেশগুলো এ সুযোগটি কাজে লাগায়। তাই তো বন্দর নিয়ে পরাশক্তিধর দেশগুলো একের পর এক আবদার খাটিয়ে যাচ্ছে। তাঁরাও কোনোপ্রকার যাচাই-বাছাই না করেই কেন যেন দেশ বিক্রি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হচ্ছে। দেশের সংকটকালে অর্থাৎ দেশের জনগণ যেখানে একটি প্রত্যাশীত রায়ের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন… কখন কি হচ্ছে, এমন একটি উদ্বেগে ছিল? ঠিক ওই মুহূর্তে এ চুক্তি অর্থাৎ হুটহাট করেই বন্দর নিয়ে যা ঘটে গেল। ১৭ নভেম্বর ২০২৫ইং, পরপর দুটি চুক্তি হয়। চট্টগ্রামের লালদিয়া চরে ডেনমার্কের মায়ের্স গ্রুপের এপিএম টার্মিনাল কোম্পানির সাথে একটি, অপরটি সুইজারল্যান্ডের মেডলগ এসএ কোম্পানির সাথে নারায়ণগঞ্জের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত পানগাঁও বন্দরে চুক্তি। পানগাঁও বন্দরে সাথে ২২ বছর, লালদিয়া চরে টার্মিনাল নির্মাণ ও হেন্ডলিংয়ে জন্য ৩৩ বছর চুক্তি হয়। চুক্তিতে আরো যেসব শর্ত আছে, লালদিয়া চরে টার্মিনাল ১০ বছর ধরে সকলপ্রকার কর ও ট্যারিফ মুক্ত থাকবে। বিপরীতে আড়াইশ কোটি টাকা দেয়া হবে বলে পিপিপির নির্বাহী আশিক চৌধুরী গণমাধ্যমে জানান। সঙ্গে বলা হচ্ছে, ডেনমার্কের ওই কোম্পানি ৬ হাজার সাতশো কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। কোম্পানিটি প্রয়োজনে চাইলে আরো ১৫ বছর চুক্তি সম্পাদন করতে পারবে। বিডা (বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) ও ভেজবা-র (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল) দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী আশিক চৌধুরী এ চুক্তি সম্পাদান করেন। ব্যক্তিগতভাবে এ তরুণ একজন অর্থনীতিবিদ। তিনি দ্বৈত নাগরিকও। যতটুকু জানাগেছে, থাকেন ইউরোপের কোন এক দেশে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে ৪ মাস পর তিনি দেশের এ গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগদেন। সম্ভবত কাজ শেষে পুনরায় অবস্থানরত দেশটিতে পাড়ি জমাবেন। কথা হলো, দেশের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দ্বৈত নাগরিক ও বয়সে তরুণ এক যুবকে দায়িত্ব দেয়ার এ ঘটনাও বিতর্কের সৃষ্টি হয় দেশব্যাপী; তবে তরুণদের সাহস একটু বেশি! কিন্তু সব ক্ষেত্রে সাহস বা মনোবল কাজে আসে না। এটি সার্বভৌমত্বের ব্যাপারস্যাপার। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষাও নিতে হবে- ভারতবর্ষে নবাব সিরাজ দৌলার পতনের ইতিবৃত্ত, যা কিনা সাড়ে আড়াইশ বছরের গোলামী আর পরাধীনতা শেকলে বন্ধি থাকতে হয়। একটি ক্ষুদ্র ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে ব্যবসা করার অনুমতি দিয়ে প্রতিবাদী লক্ষ লক্ষ আমজনতাকে প্রাণ হারাতে হয়। ইতিহাসের এ নির্মমতা কখনো ভারতীয়রা ভুলতে পারে না।
আশিক চৌধুরীর ভালো ইংরেজিও বলতে পারেন। তাঁর এসব এক্টিভিটি এ নয় যে চট্টগ্রাম বন্দরের মতো একটি সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর স্থান বিদেশি হাতে ছেড়ে দিবেন; চট্টগ্রাম বন্দর হচ্ছে দেশের অর্থনীতির হৃদপিন্ড বা অর্থনীতির ফাইব লাইন। দেশের ৯০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে এ বন্দর দিয়ে। কোনোভাবেই এ বন্দর হাতছাড়া হয়ে গেলে দেশের আত্মসামাজিক ও অর্থনীতিতে বড় ধরণের ধ্বস নামবে। সঙ্গে লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবি-লোক বেকার হয়ে পড়বে। এরমধ্যে দেশের নানাবিধ সমস্যার কথাও বলেছেন দেশের বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদরা। ২৩ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ‘স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি’ নামের একটি ছাত্র সংগঠন সাংবাদিক সম্মেলন আহবান করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক এ ছাত্র সংগঠন চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি হাতে ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেন। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে তাদের উদ্বেগ। বিশেষ করে ইসরায়েল ও আমেরিকার স্বার্থে কাজ করা ডিপি ওয়ার্ল্ড ও এপিএম টার্মিনাল কোম্পানি। যা কিনা বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর দীর্ঘমেয়াদি ইজারা নেয়া। এ ধরণের কনসেশন বা ইজারা দেয়ার ঘটনা মারাত্মক রকমের আত্মঘাতী সিদ্ধান্তও বলা হয়। সংগঠনটির মুখপাত্র আরো বলেন, ভবিষ্যতে এসব বিদেশি অপারেটর দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি প্রণয়ন এবং সার্বভৌম সিদ্ধান্তগ্রহণে পদে পদে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সুদানের মত বন্দর থেকেও পাহাড়ে বিছিন্নতাবাদীদের মদদদাতা হয়ে উঠতে পারে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ইশারায় দেশে গৃহযুদ্ধ তৈরির নীলনকশা ও ইন্ধনদাতা হয়ে উঠতে পারে। এমনকি সুযোগ-বুঝে দেশের মানচিত্র পরিবর্তনেরও দু:সাহস দেখাতে পারে। এছাড়া অর্থনীতির সামরিক, অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তি- দেশের স্পর্শকাতর তথ্য ইসরায়েল ও আমেরিকাসহ বিদেশি কাছে পাচার করার ঘটনাও ঘটতে পারে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, স্টুডেন্ট ফর সভবেন্টির এর আহব্বায়ক মুহম্মদ জিয়া উল হক, যুগ্ম আহব্বায়ক মুহিউদ্দিন রাহাত, দপ্তর সদস্য জুবায়েদুল ইসলাম শিহাব, আব্দুল্লাহ আল মাহিন, জাবিব বিন মাহবুব প্রমুখ। এরমধ্যে দেশের সমমনা সকল বামদল, কমিউনিস্ট পার্টি, বিএনপি ও জামায়াত ইসলামি বন্দর ইজারা দেয়ার ঘটনা উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে এ ইজারা বাতিলের দাবিও জানান সংগঠনগুলো। এর মধ্য গত ২৬ নভেম্বর শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ স্কপের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বন্দরে অভিমুখে অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। শ্রমিকরা তিনটি স্পটে সকাল ১০টা থেকে সড়কে অবস্থান নেয়। যদিওবা তাদের কর্মসূচি ছিল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। পরে বন্দর পুলিশ কমিশনারের অনুরোধে সকাল সাড়ে ১১টায় তাদের অবরোধ প্রত্যাহার করেন। একইসাথে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, অবিলম্বে বন্দর বিদেশিদের কাছে ইজারা দেয়া বাতিল না করলে তাঁরা কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
এ বন্দরকে ঘিরে রাজনীতিতে উত্তপ্ত চলছে। ঢাকাসহ দেশব্যাপী রাজনৈতিক দলগুলোর বিক্ষোভ মিছিল অব্যাহত রাখে। এমন কি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস এর কার্যলয় যমুনাও ঘেরাও করার হুমকি দেয়া হয়। সঙ্গে বন্দর ইজারা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেয়া চলছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক স্ট্যাটার্স উল্লেখ কলেন, ‘বন্দর- এলডিসি নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।’ অপরদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান-এরও এক স্ট্যাটার্স ভেসে বেড়াচ্ছে। তিনি এ স্ট্যাটর্সে বলেন, নির্বাচিত সরকারের মতো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যেকোনো বিষয়ে।
লেখক : কবি, গবেষক ও কলামিস্ট










