পূর্বদেশ ডেস্ক
সাতকানিয়ায় নির্বাচনি জনসংযোগের সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতা শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে; যেখানে তিনি বলেন, ‘আমাকে যারা চিনে নাই তারা এখনও পর্যন্ত মাটির নিচে বসবাস করে’।
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সাবেক এই আমিরের দেওয়া এমন বক্তব্যের দেড় মিনিটের ভিডিও গতকাল বৃহস্পতিবার ফেসবুকে ছড়ালে তা নিয়ে আলোচনায় যোগ দিয়েছেন অনেকে। খবর বিডিনিউজের।
নির্বাচনি গণসংযোগকালে স্থানীয়দের উদ্দেশে তাকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় ওই বক্তব্য দিতে দেখা যায়।
দিন কয়েক আগে পুলিশ ও প্রশাসন নিয়ে বির্তকিত বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্যকে এ ভিডিওতে আরও বলতে শোনা যায়, ‘চুদুরবুদুর করিও না, লুলা হয়ে যাবা। আমি যদি চোখের পানি ফেলি লুলা হয়ে হয়ে যাবা। আমি বড় কষ্ট পেয়েছি। ১৮ বছরের মধ্যে নয়বছর জেল খেটেছি। পয়সা চাইনি, ধন-দৌলত চাইনি, পরিবার দেখেনি। আমি তোমাদের দুয়ারে এসেছি। আমরা স্বার্থপর নই।’
তবে তিনি কে বা কাদের উদ্দেশে এমন বক্তব্য দেন তা স্পষ্ট হয়নি। সাতকানিয়ার স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৩ নভেম্বর ওই উপজেলার চরতী এলাকায় নির্বাচনি জনসংযোগে গিয়ে তিনি এ বক্তব্য দেন।
এ বিষয়ে শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যক্তিগত সহকারী আরমান উদ্দিন বলেন, বক্তব্যটি বেশ কিছুদিন আগের।
জামায়াতের সাবেক এই সংসদ সদস্য চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি এ এলাকা থেকে জয়ী হন।
গত ৩ নভেম্বর বিএনপি চট্টগ্রামের ১৬টির মধ্যে ১০টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে। তবে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে এখনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।
এ নির্বাচনি এলাকায় জনসংযোগ করছেন শাহজাহান চৌধুরী। ভিডিওতে তাকে একটি পথসভায় কথা বলতে দেখা যায়। ফেসবুকে ওই বক্তব্যের ভিডিওয়ের একটি ক্লিপ ছড়িয়েছে।
ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘খবরদার, খবরদার আমি শাহজাহান চৌধুরী, আমাকে যারা চিনে নাই তারা এখনও পর্যন্ত মাটির নিচে বসবাস করছে। আমার জন্য আল্লাহ আছে, আল্লাহর মেহেরবানি আমার জন্য সূর্য দাঁড়িয়ে থাকবে। আল্লাহতালা আমাকে এ মর্যাদা দিয়েছে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার চোখের পানি বৃথা যায়নি।’
এতে তিনি আরও বলেন, ‘আমার সাতকানিয়া-লোহাগাড়াবাসী-চরতীবাসী, এটা আমার শায়খ আর ওস্তাদ মাওলানা মমিনুল হক চৌধুরীর এলাকা। আমি এ এলাকাকে সম্মান করি। এই এলাকার মাটিকেও সম্মান করি। এখানে আর কোনো রাজনীতি নাই, এখানে আর কোনো মার্কা নাই। সাতকানিয়া-লোহাগাড়াতে মার্কা একটাই এটা হল- দাঁড়িপাল্লা।’










