আনোয়ারা ও বাঁশখালী উপকূলে আশার আলো

30

রাহুল দাশ নয়ন

আনোয়ারা-বাঁশখালী উপকূল রক্ষায় মেগা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সকালে জাতীয় অর্থনীতি পরিষদ (একনেক) সভায় ‘দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলায় টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। জিওবি ফান্ডে ৮৭৪ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। বাঁশখালীর খানখানাবাদ, বাহারছড়া, ছনুয়া ও সাধনপুর এবং আনোয়ারার রায়পুর ও জুঁইদন্ডী ইউনিয়নে এ প্রকল্পের কাজ হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শিবেন্দু খাস্তগীর পূর্বদেশকে বলেন, ‘বাঁশখালী-আনোয়ারা টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় নেয়া ৮৭৪ কোটি টাকার প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছে। এ প্রকল্পের অধীনে বাঁশখালী উপকূলে প্রায় পৌনে ৬০০ কোটি টাকার কাজ হবে।বাকি টাকার কাজ হবে আনোয়ারা উপকূলে। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য অর্থ প্রতিমন্ত্রী ও বাঁশখালীর সংসদ সদস্য অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন। প্রকল্পটি উপকূলের বেড়িবাঁধ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে লবন, মৎস্য ও কৃষি চাষে আমূল পরিবর্তন ঘটবে। আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।’
প্রকল্প এলাকায় কৃষি নিবিড়তা বৃদ্ধি, মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন সাধন, লবণ চাষের ক্ষেত্র বৃদ্ধি, পর্যটন খাতের বিকাশ, জীববৈচিত্রের জন্য উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন, দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ প্রকল্প এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে বিধায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। বাঁশখালী-আনোয়ারা পাঁচ লক্ষ জনগণ প্রত্যক্ষভাবে প্রকল্পটির সুফল পাবে। যেখানে পরোক্ষ উপকারভোগীর সংখ্যা অন্তত ১২লক্ষ। পর্যটন খাতের বিকাশ হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিনোদন কেন্দ্রের বিস্তার হবে।
পাউবো সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় বাঁশখালীর ৬৪/১এ, ৬৪/১বি, ৬৪/১সি,৬৪/২এ পোল্ডারে ৭দশমিক ৫১০ কিলোমিটার এবং আনোয়ারায় ৫ দশমিক ১৭৫ কিলোমিটার স্থায়ী তীর প্রতিরক্ষা করা হবে। এরমধ্যে ১১দশমিক ৫৮৫ কিলোমিটার বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ও ঢাল সংরক্ষণ এবং ১দশমিক ১০ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ করা হবে। বাঁশখালীর বাহারচড়ায় ১০০০ মিটার, খানখানাবাদে ১৩১০ মিটার, ছনুয়ায় ২৮০০মিটার সমুদ্র তীর প্রতিরক্ষা এবং সাঙ্গু নদীর তীর রক্ষায় সাধনপুর ১১০০ মিটার ও মোহনায় পুরাতন বাঁধ শক্তিশালীকরণ ১৩০০ মিটার কাজ হবে। আনোয়ারার রায়পুরে ২৭৭৫ মিটার সমুদ্র তীর প্রতিরক্ষা এবং রায়পুরে ১২০০ মিটার, জুঁইদন্ডী ১২০০ মিটার উপকূলীয় বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ ও ঢাল সংরক্ষণ কাজ হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিভাগ-১) শওকত ইবনে শহীদ পূর্বদেশকে বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বিরূপ প্রভাব, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢল রোধ হবে। আনোয়ারা-বাঁশখালী উপকূলের জন্য প্রকল্পটি অত্যন্ত কার্যকর। অর্থনৈতিকভাবেই এ প্রকল্পের গুরুত্ব রয়েছে। প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে আনোয়ারা-বাঁশখালী উপকূলে পানি নিয়ে আর আতঙ্ক থাকবে না।’
এ বিষয়ে কথা বলতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিভাগ-২) ড. তানজির সাইফ আহমেদকে চারদফা ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল পূর্বদেশকে বলেন, ‘বাঁশখালী অংশে খানখানাবাদ, সাধনপুর, বাহারছড়া ও ছনুয়া অংশে যেসব এলাকা আগের প্রকল্পে ধরা ছিল না সেসব এলাকাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রকল্পটি বানানো হয়েছে। প্রকল্পটি প্রথমদিকে অনেক বড় ছিল। পরে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ছোট করা হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুন মাসে শেষ হবে।’
২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে ‘দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলায় টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের’ সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। সেসময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৮ সদস্যের সমীক্ষা কমিটি প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরে সুপারিশ করে। গত ৭ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পিইসি সভায় প্রকল্পের ডিপিপি পুনর্গঠন করা হয়।