আনোয়ারায় কাফনের কাপড় পরে মশাল মিছিল-বিক্ষোভ

0

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে সরোয়ার জামাল নিজামের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে কাফনের কাপড় গায়ে দিয়ে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ। এ সময় সরোয়ার জামাল নিজামের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আনোয়ারায় অনুষ্ঠিত এই মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশে নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, অত্যন্ত সুকৌশলে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দলের হাইকমান্ড ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানকে ভুল বুঝিয়ে ভুল বার্তা দিয়ে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের মনোনয়ন ভাগিয়ে নেওয়া হয়েছে। তারা দাবি করেন, এ আসনে যিনি মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি আওয়ামী লীগের দোসর, সুবিধাভোগী ও বহু বছর ধরে রাজপথে অনুপস্থিত পলাতক ব্যক্তি। তাকে গত ১৭ বছরে কোনো আন্দোলন, সংগ্রাম, মিছিল-মিটিংয়ে দেখা যায়নি। আনোয়ারা-কর্ণফুলীর বিএনপির তরুণ কর্মীরাও তাকে চিনে না। স্বৈরশাসনামলে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে কখনও সরব ছিলেন না। তিনি আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করেছেন। নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার জামাল নিজাম দলের দুর্দিনে কখনও তৃণমূলের পাশে দাঁড়াননি, নেতাকর্মীদের খোঁজ নেননি। যখন আওয়ামী লীগের সীমাহীন দমন-পীড়নে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘরছাড়া ও ফেরারি জীবনযাপন করছিলেন, তখন তিনি নিশ্চিন্তে পরিবার পরিজন নিয়ে বিলাসিতায় সময় কাটিয়েছেন। এমন একজন ব্যক্তিকে ধানের শীষের প্রার্থী করায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্য তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা আরো বলেন, দুঃসময়ে আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে সংগঠনকে যারা ঐক্যবদ্ধ করেছেন, যারা রাজপথে সংক্রিয় থেকেছে, যারা তিলে তিলে আনোয়ারা-কর্ণফুলীকে বিএনপির দুর্গে পরিণত করেছেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দাবিতে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, যারা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে হামলা, মামলা ও কারাভোগ করেছেন; এরকম একজন নেতাকে ধানের শীষের প্রতীকে মনোনয়ন দিলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নির্দ্বিধায় মেনে নিবে। নেতাকর্মীদের মতে, দলের জন্য নিবেদিত, সৎ, পরিশ্রমী ও ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করায় বিএনপির আপামর কর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আজকের মশাল মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশে সেই ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটেছে। তারা এক কণ্ঠে বলেন, আমাদের প্রাণের দাবি দেশনায়ক তারেক রহমান দলের স্বার্থে, তৃণমূলের স্বার্থে এবং জনগণের স্বার্থে চট্টগ্রাম-১৩ আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে ঘোষিত মনোনয়ন অবিলম্বে বাতিল করবেন। বিএনপির তৃণমূল ও সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরবে। অন্যথায় এ আসনটি ধানের শীষের জন্য চিরতরে হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। এসময় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় মাঠের কর্মীদের অবমূল্যায়ন করাতে তৃণমূলে তৈরি হয়েছে হতাশা। তারা বলেন, ন্যায়বিচার ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলবে। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। মশাল মিছিলটি কর্ণফুলী আনোয়ারা কালাবিবির দিঘি মোড় থেকে শুরু হয়ে এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কর্ণফুলী টানেলের মুখে গিয়ে শেষ হয়। এসময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে সারোয়ার জামাল নিজামের কুশপুত্তলিকা দাহ ও তার ছবি সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুনে আগুন জ্বালিয়ে প্রায় ১ ঘণ্টার মতো বিক্ষোভ করেন। এসময় সরোয়ার নিজামকে আওয়ামী লীগের দোসর ও মীরজাফর আখ্যায়িত দিয়ে চট্টগ্রাম-১৩ আসনে মনোনয়ন রিভিউয়ের দাবি জানান তারা। উক্ত মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশে কারা নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতা রফিক ডিলার, আবুল কাসেম, মোস্তাক আহমেদ, জামাল হোসেন, মুজিব, জীবন, মো. মারুফ, মো. ইমন, আবু কালাম, মো. তারেক, এরশাদ, শফিউল, ইউচুপ, এরফানুর রশীদ, রুবেল, মো. আবছার, হাসান, মহিউদ্দিন, তৌহিদ, নয়ন, মালেক, শামসুল, দস্তগীর, হোসেন প্রমুখ। খবর বিজ্ঞপ্তির