আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন মেহজাবীন

3

পূর্বদেশ ডেস্ক

ব্যবসায় অংশীদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২৭ লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ করা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার’ অভিযোগের মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিসান চৌধুরী। গতকাল রোববার বিকালে ঢাকার নির্বাহী হাকিম আদালত ৩ এর বিচারক আফরোজা তানিয়ার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তারা।
শুনানি নিয়ে আদালত তাদের জামিনের আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন মেহজাবীনের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার। খবর বিডিনিউজের।
এর আগে ব্যবসায় অংশীদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২৭ লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ করা ও হত্যার হুমকি দেওয়ার’ অভিযোগে মেহজাবীন এবং তার ভাই আলিসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে একই আদালত।
মামলার বাদী আমিরুল ইসলাম গত ১০ নভেম্বর তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করার তথ্য দেন। তিনি বলেন, সেদিন এ মামলায় আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে তারা হাজির হননি। এজন্য আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
আমিরুল ইসলাম গত ২৪ মার্চ বাদী হয়ে ঢাকার নির্বাহী হাকিম আদালতে এ মামলা করেছিলেন।
গতকাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার সংবাদ সংবাদমাধ্যমে আসার পর তা নিয়ে আলোচনার মধ্যে মামলাটি ‘ভিত্তিহীন’ বলে পরে ফেসবুকে পোস্ট দেন এ অভিনেত্রী। তিনি বলেন, যে বা যারা মামলাটি করেছেন তাদের তিনি চেনেন না। পরে সন্ধ্যায় আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন মেহজাবীন ও তার ভাই।
আদালতে তাদের পক্ষে জামিনের শুনানি করেন তুহিন হাওলাদার। শুনানি নিয়ে আদালত তাদের জামিনের আদেশ দিয়েছেন জানিয়ে এ আইনজীবী বলেন, মেহজাবীন একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী। তাকে হয়রানি করার জন্য মামলাটি করেছেন।
আগামী ১৮ ডিসেম্বর আসামিদের জবাব দাখিলের দিন ধার্য করার কথা বলেন তিনি।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, আমিরুল ইসলামের সাথে দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মেহজাবীন চৌধুরীর নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখবে বলে নগদ অর্থে এবং বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ২৭ লাখ টাকা দেন। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ায় আমিরুল ইসলাম বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে আজকে দিব, কালকে দিবো বলে দীর্ঘদিন কালক্ষেপণ করে।
পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পাওনা টাকা চাইতে যান তিনি। তাকে ১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে আসতে বলেন। ওইদিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তারা বলেন ‘এরপর তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না। তোকে বাসার সামনে পুনরায় দেখলে জানে মেরে ফেলব’।
এসব কথা বলে তারা আমিরুলকে জীবননাশের হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানায় গেলে কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করার জন্য পরামর্শ দেয়।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও মামলার খবর সামনে এলে পরে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে মেহজাবীন বলেছেন তার বিরুদ্ধে মামলার খবরটি দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন।