আজ বিশ্ব এইডস দিবস : প্রয়োজন সচেতনতা ডা. জুনায়েদ খান

1

১৯৮৭ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৮৮ সাল থেকে প্রতি বছর ১ ডিসেম্বর ‘বিশ্ব এইডস দিবস’ পালিত হচ্ছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এইডস রোগের প্রতিরোধ, এইরোগে আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিদের স্মরণে এই দিবসটি পালিত হয়।
বাংলাদেশে ১৯৮৯ সালে সর্বপ্রথম এইডস রোগে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়। এইচআইভি নামক একটি আরএনএ ভাইরাসের মাধ্যমে এ রোগটি মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়।
এ রোগের লক্ষণ সমূহের মধ্যে ঘন ঘন দীর্ঘ দিনের কাশি; যা এন্টিবায়োটিক সেবনেও সারছে না, দীর্ঘদিন জ্বর; যা কিনা যথার্থ এন্টিবায়োটিককেও সারছে না এবং কোনো কারণ ছাড়াই শরীরের মোট ওজনের ১০% এর বেশী দ্রুত ওজন কমে যাওয়া অন্যতম। এ ধরণের রোগীদের যদি অবিশ্বস্থ যৌনমিলনের অভিক্ষতা থাকে, তবে এইডস রোগে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হয়।
অনিয়ন্ত্রিত যৌনাচার, পুরুষ যৌন সঙ্গীর সাথে মিলন, শিরাপথে মাদক সেবন, দূষিত রক্তসঞ্চালন, আক্রান্ত গর্ভবতী নারী থেকে ভূমিষ্ট নবজাতকও এইচআইভি পজেটিভ সংক্রমণ হতে পারে।
জনসচেতনতামূলক ব্যাপক প্রচারণা, সঠিক রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে এই রোগ এখন আর আগের মতো মারাত্মক নয়। সারাবিশ্বে এ রোগের সংক্রমণ নিম্নগামী। আক্রান্ত রোগীরা এখন ‘এআরটি’ নামক কার্যকর ঔষধ সেবনের মাধ্যমে অনেকটাই স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে।
চট্টগ্রামে এ রোগের সংক্রমণ গতবছরের তুলনায় কম। ২০২৪ সালে ৮৪ জন আক্রান্ত হলেও ২০২৫ সালে (অক্টোবর পর্যন্ত) আক্রান্ত হয়েছে ৬৯ জন। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, বিদেশফেরত যাত্রীদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশী দেখা যায়।
বর্তমানে এই রোগের পরীক্ষা (এইচআইভি এন্টিবডি টেস্ট, সিডি-ফোর) সহ সব ঔষধ বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘এআরটি কর্নার’ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ ঔষধ সরবরাহ করে থাকে।
তাই এই রোগের লক্ষ্যণ দেখা দিলে কালবিলম্ব না করে সরকারি হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগে যোগাযোগ করার জন্য পরামর্শ থাকে চিকিৎসকদের।