আচরণবিধি বাস্তবায়নে ইসির ‘সক্ষমতা নেই’ : এনসিপি

4

জোট করলেও প্রার্থীর স্ব স্ব দলের প্রতীকে ভোট করা নিয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) বিধান যুক্ত করায় নির্বাচন কমিশনকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে প্রশংসা করেছে নতুন নিবন্ধিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। বড় কোনো দলের চাপ থাকলেও ইসির সিদ্ধান্ত যেন অটুট থাকে সে দাবি জানিয়েছে দলটি। তবে এবার ভোটের প্রচারে পোস্টার বন্ধ করে দিয়ে নানা ধরনের ‘অমূলক’ বিষয় যুক্ত করায় আচরণবিধি বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলটির নেতারা। গতকাল বুধবার সকালের পর্বে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে এনসিপিসহ সাতটি দল ইসির সংলাপে অংশ নেয়। খবর বিডিনিউজে
নিবন্ধন পাওয়ার পর এনসিপি প্রথম সংলাপে অংশ নেয়। এতে মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মূসা ও এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি তাসনিম জারা অংশ নেন। এসময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন, অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জোট করলেও নিজ নিজ দলের প্রতীকে ভোট করতে হবে-ইসির সিদ্ধান্ত নিয়েছে এটা যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। কোনো বড় দলের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। ইসি যেন নিজের সিদ্ধান্তে অটুট থাকেন সে আহবান জানাই। আগের বিধান অনুযায়ী জোট মনোনীত প্রার্থীরা অন্য দলের প্রতীকেও ভোট করতে পারত। এবার আরপিও সংশোধিত হয়েছে, সেক্ষেত্রে জোট করলেও ভোট করতে হবে প্রার্থীর নিজ দলের প্রতীকে। বিএনপির পক্ষ থেকে আরপিও বিধানটি ফের সংশোধনের তাগিদ দিয়ে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ও আইন উপদেষ্টার কাছে।
নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর কথায়, প্রতীক কিন্তু একজনের পরিচয়। নিজের শরীর আছে, কিন্তু কেউ অন্যের প্যান্ট, জামা পরে ইলেকশনে যায়, তাহলে মুখ দেখে চেনা যাবে কে? তাই যারা রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিবৃন্দ রয়েছেন, দীর্ঘ সময় পরে আমাদের সামনে একটা সুযোগ এসেছে নিজের প্রতীকে নির্বাচন করে নিজের জায়গায় নিজের পরিচয় জানানোর। এই সুযোগটি আমরা হারাবো না—এটা আমাদের বড় পাওয়া। গণভোটের বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনাও চান এনসিপি নেতা।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমাদের এই ইলেকশনের বড় একটি বিষয় হচ্ছে গণভোট। গণভোট কী প্রক্রিয়ায় হবে? কিভাবে আপনারা এটা বাস্তবায়ন করবেন? এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আমরা কবে পাব? কবে আমরা প্রচারণা করতে পারব সে বিষয়ে জানাবেন। আমরাও কিছু কলাবোরেশন কাজ করতে পারবো বলে আশা করি। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অবস্থান দেখালে দলটির পক্ষ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
সব দল মাঠে নামলে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির আহবান জানিয়ে মূখ্য সমন্বয়ক বলেন, ইলেকশন কমিশন সব দলের উপরে থাকবে। ইসি যদি তার স্বতন্ত্র সত্তা বজায় রাখতে পারে এবং যদি তার দায়বদ্ধতা সংবিধানের কাছে থাকে, কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে না থাকে; তাহলে আমরা শতভাগ ইসি যে কোঅপারেশন চাওয়া হবে, তা দেবো। এবং ইলেকশন কমিশন যেভাবে ইলেকশনকে দিকনির্দেশনা দেবে, আমরাও সেভাবেই মেনে চলার চেষ্টা করবো। ভোটকে সামনে রেখে নারী কোনো ধরনের হয়রানি শিকার হলে তা মনিটরিংয়ের পাশপাাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং নির্বাচনি পরিবেশ উৎসবমুখর করতে উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানান পাটওয়ারী। প্রবাসী ভোটারদের গণভোটে সম্পৃক্ত করা, ব্যাপক প্রচারণা এবং ভোটের আগেও যারা ১৮ বছর হবে তাদের তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মূসা বলেন, দেশের মাটি মানুষ নির্বাচনি সংস্কৃতি ও উৎসবের আমেজ রয়েছে, বিদ্যমান আচরণ বিধিমালা প্রণয়ন যারা করেছে তার সঙ্গে এর সংযোগ নেই। নির্বাচনি আমেজ মানে পোস্টারিং, মাইকিং, জনসম্পৃক্ততা ও জনসভাকে বুঝি। এখানে এমন অন্যায্য বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে, এটা বাস্তবায়নের করার কোনো সক্ষমতা ইসির নেই। এটা নিপীড়ণমূলক আইন হবে যদি নির্দিষ্ট কারো বিরুদ্ধে করে, শক্তিশালী কারোর বিরুদ্ধে একই বিধান ব্যবহারের সক্ষমতাও আপনার নেই।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব বলেছেন, বিধি লঙ্ঘনের শাস্তি বাস্তবায়ন করা হবে কীভাবে, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কীভাবে কাজটি করা হবে তা স্পষ্ট নেই।