আইরিশদের কাছে বড় হারে বাংলাদেশের সিরিজ শুরু

5

পূর্বদেশ ডেস্ক

গ্যালারিতে দর্শক এমনিতেও খুব বেশি ছিল না। যারা এসেছিলেন, তাদের বেশির ভাগই বাড়ির পথ ধরলেন বাংলাদেশের রান তাড়ায় পাওয়ার প্লে শেষেই। ম্যাচ যে কার্যত তখনই শেষ! যারা শেষ পর্যন্ত রয়ে গেলেন গ্যালারিতে, তাওহিদ হৃদয়ের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটি তারা দেখলেন। কিছু চার-ছক্কায় তালি দেওয়ার সুযোগ পেলেন। ব্যস, প্রাপ্তি ওইটুকুই। ম্যাচে আর প্রাণ ফেরেনি। খবর বিডিনিউজের।
হৃদয়ের সঙ্গে লেজের ব্যাটসম্যানদের লড়াইয়ে দলের রান কিছুটা ভদ্রস্থ হয়েছে। বিব্রতকর পরাজয় থেকে রক্ষা মিলেছে। তারপরও ৩৯ রানের বড় হারের লজ্জা পেল টাইগাররা।
সিরিজ শুরুর আগের দিন লিটন কুমার দাসের নানা মন্তব্যের জের ধরে দেশের ক্রিকেট ছিল উত্তাল। সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ দলও টালমাটাল। ব্যাটে-বলে লড়াই সেভাবে জমাতেই পারল না লিটনের দল। দারুণ জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল আয়ারল্যান্ড।
চট্টগ্রামে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে ২০ ওভারে আইরিশরা তোলে ১৮১ রান। ৫ ছক্কায় ৪৫ বলে ৬৯ রানে অপরাজিত থাকেন হ্যারি টেক্টর।
রান তাড়ায় পাওয়ার প্লেতেই বাংলাদেশ ছিটকে পড়ে লড়াই থেকে। পরে ধ্বংসস্ত‚পে দাঁড়িয়ে ৫০ বলে অপরাজিত ৮৩ রানের ইনিংস খেলেন হৃদয়। ১৩ ওভারের মধ্যে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলা দল শেষ পর্যন্ত খেলতে পারে ২০ ওভার।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা আয়ারল্যান্ডের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। উইকেট বুঝে নিয়ে প্রথম থেকেই পল স্টার্লিং ও টিম টেক্টরের ব্যাটে ছিল দ্রæত রান তোলার তাড়া। স্পিনে জায়গা বানিয়ে বাউন্ডারি আদায় করেছেন দুজন, থিতু হতে দেননি বাংলাদেশের পেসারদের।
প্রথম ৪ ওভারে ৪০ রান তোলেন দুজন। শরিফুল ইসলামের প্রথম দুই ওভারে বাউন্ডারি আসে ৬টি! পঞ্চম ওভারে তানজিম হাসান আক্রমণে এসে স্টার্লিংকে (২১) ফিরিয়ে ভাঙেন এই জুটি।
পাওয়ার প্লের পর রিশাদ হোসেনকে চার ও ছক্কায় বোলিংয়ে স্বাগত জানান টিম টেক্টর। তার সঙ্গে তখন জুটি বাঁধেন বড় ভাই হ্যারি টেক্টর। দুই ভাইয়ের জুটি অবশ্য খুব লম্বা হয়নি। ১৯ বলে ৩২ করে রিশাদের বলে আউট হন টিম টেক্টর।
ছোট ভাইয়ের বিদায়ের পর দায়িত্ব বুঝে নেন হ্যারি টেক্টর। তাকে কিছুটা সঙ্গ দেন লর্কান টাকার (১৮)। পরে আরেকটি কার্যকর জুটি গড়ে ওঠে কার্টিস ক্যাম্ফারের সঙ্গে।
১৭ বলে ২৪ রান করা ক্যাম্ফার আউট হন তানজিমের বলে পারভেজ হোসেন ইমনের অসাধারণ এক ক্যাচে।
আয়ারল্যান্ডের শেষের ঝড় অবশ্য তাতে থামানো যায়নি। জর্জ ডকরেল ক্রিজে গিয়ে তিন বলের মধ্যে দুটি বাউন্ডারি মেরে দেন। শেষ ওভারে টেক্টরের দুই ছক্কায় দলের রান ছাড়িয়ে যায় ১৮০।
টি-টোয়েন্টিতে দেশের মাঠে কখনও ১৬৫ রানের বেশি টপকে জিততে পারেননি বাংলাদেশ। সেই চ্যালেঞ্জ জিততে জরুরি ছিল ভালো শুরু। উল্টো শুরুতেই দল ছুটতে থাকে উল্টো পথে।
ম্যাথু হামফ্রিজের প্রথম ওভারেই মিড অনে ক্যাচ দেন তানজিদ হাসান। পরের ওভারে মার্ক অ্যাডায়ারকে উইকেট উপহার দিয়ে ফেরেন লিটন কুমার দাস।
সেই রেশ কাটার আগেই আরেকটি ধাক্কা। পারভেজ হোসেন ইমনের জন্য স্কয়ার লেগ ও মিড উইকেট সীমানায় ফিল্ডার রেখে বল করছিলেন অ্যাডায়ার। সেই ফাঁদে পা দিয়ে মিড উইকেটেই ক্যাচ দেন এই বাঁহাতি।
প্রথম ৯ বলে কোনো রান না দিয়ে ২ উইকেট নেন অ্যাডায়ার। সাইফ হাসান প্রথম ৭ বলে পাননি রানের দেখা। সেই সাইফ ভীষণ দৃষ্টিকটূ এক শটে বোল্ড হয়ে যান ১৩ বলে ৬ করে। পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ তোলে ৪ উইকেটে ২০ রান।
ম্যাচের ভাগ্য গড়া হয়ে যায় সেখানেই। দেখার ছিল, আদৌ লড়াই জমাতে পারে কি না বাংলাদেশ। তাওহিদ হৃদয় ও জাকের আলির ব্যাটে কিছুটা আভাস দেখা গেলেও লম্বা হয়নি তা। ১৬ বলে ২০ রান করে বিদায় নেন জাকের। জুটিতে আসে ৩৪ বলে ৪৮ রান। এই জুটি ভাঙার পর ধস নামে আবার। হামফ্রিজ এক ওভারেই ফেরান তানজিম, রিশাদ ও নাসুমকে।
১০০ রান তখন বহুদূরে। ৮ উইকেটে ৭৪ রান নিয়ে ধুঁকছে দল। সব হারিয়ে কিছুটা লড়াই দেখা যায় নবম জুটিতে। হৃদয়কে সঙ্গ দেন শরিফুল। ৩৪ বলে ফিফটি ছুঁয়ে এগিয়ে যান হৃদয়। শরিফুল নিজেও মারেন বিশাল এক ছক্কা। নবম জুটিতে আসে ৪৮ রান, এই সংস্করণে যা বাংলাদেশের রেকর্ড। শেষ ওভারে একটি ছক্কা ও দুটি চারে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটিকে আরেকটু সমৃদ্ধ করেন হৃদয়। দর্শকরা পায় কিছুটা বিনোদন।
দুর্ভাবনাগুলো আড়াল হচ্ছে না তাতে। এই বছর টানা চারটি সিরিজ জয়ী দল এবার হেরে গেল টানা চারটি ম্যাচে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আয়ারল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৮১/৪ (স্টার্লিং ২১, টিম টেক্টর ৩২, হ্যারি টেক্টর ৬৯*, টাকার ১৮, ক্যাম্ফার ২৪, ডকরেল ১২*; শরিফুল ৪-০-৪২-১, নাসুম ৪-০-৩৭-০, তানজিম ৪-০-৪১-২, মুস্তাফিজ ৪-০-২৩-০, রিশাদ ৪-০-৩৪-১)।
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৪২/৯ (তানজিদ ২, পারভেজ ১, লিটন ১, সাইফ ৬, হৃদয় ৮৩*, জাকের ২০, তানজিম ৫, রিশাদ ০, নাসুম ০, শরিফুল ১২, মুস্তাফিজ ২*; হামফ্রিজ ৪-০-১৩-৪, অ্যাডায়ার ৪-১-২০-২, লিটল ৪-০-৪০-০, ম্যাককার্থি ৪-০-২৩-৩, ডেলানি ২-০-২৪-০, ক্যাম্ফার ২-০-১৯-০)।
ফল: আয়ারল্যান্ড ৩৯ রানে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে আয়ারল্যান্ড ১-০তে এগিয়ে।
ম্যান অব দা ম্যাচ: ম্যাথু হামফ্রিজ।