লায়ন এইচ এম ওসমান সরওয়ার
বর্তমানে আমাদের দেশের সাক্ষরতার হার শতকরা ৭২.৯%। দিনদিন মানুষ শিক্ষিত হচ্ছে কিন্তু সর্বক্ষেত্রে বেড়েই চলছে নিত্য নতুন অপরাধ, ধ্বংস হচ্ছে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা। শিক্ষিত মানুষ দ্বারাই অপরাধ বেশি ঘটছে, যদি প্রশ্ন করি কেন? কারণ হিসেবে অনেক কিছুই বলা যায়, তবে নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা, পারিবারিক শিক্ষা ও সুস্থ ধারার সংস্কৃতির অভাবকেই মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়। ‘শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড’ কথাটি পরিপূর্ণ সত্য নয়, সুশিক্ষা-ই জাতির মেরুদন্ড কারণ শিক্ষা মানুষকে শিক্ষিত করে; কিন্তু সর্বদা সুশিক্ষিত করতে পারে না। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার জন্য নৈতিকতা থাকাটা জরুরি। বর্তমান সমাজে নীতিবান ও সুশিক্ষিত মানুষের বড়ই প্রয়োজন। চোখ খুললেই চারপাশে ডিগ্রিধারীদের দেখা মেলে। আমি শিক্ষার বিরোধিতা করছি না; কিন্তু সুশিক্ষার অভাবের কথা বলছি। স্কুল-কলেজে শিক্ষাগ্রহণ জীবন গঠনে অবশ্যই বড় ভূমিকা পালন করে। জীবনে সুন্দরভাবে প্রতিষ্ঠা লাভে এর প্রয়োজন অনস্বীকার্য। কিন্তু সেটা পরিপূর্ণ মানুষ হতে যথোপযুক্ত নয়, এর জন্য প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষা। বর্তমান সমাজটা আজ অস্থিরতায় ভরা। প্রতি মুহূর্তে কী ঘটে বলা মুশকিল। প্রতিনিয়ত ধর্ষণ, খুনসহ নানা অপরাধ প্রতিদিনকার খবরের শিরোনাম হচ্ছে। কেন এই অবস্থা? ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচতে পারছে না শিশুরাও। অধঃপতন ঘটেছে চরিত্রের, ধ্বংস হচ্ছে মনুষ্যত্বত্ত্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেমন নিরাপদ নয় শিক্ষার্থীরা; তেমনি আপন বাবা-চাচার কোলে নিরাপদ নয় সন্তানও। দুঃখের বিষয় আজকাল নানা ধরনের অপরাধ করেও অপরাধীর কোনো অনুশোচনা দেখা যায় না। তারা হয়ে উঠছে আরো বেপরোয়া, উচ্ছৃঙ্খল। এ কারণ হলো, আমাদের নৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থান একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। এ জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষাচর্চা জরুরি। জীবনকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করতে এর কোনো বিকল্প নেই। নৈতিক শিক্ষার অভাবে পরিবার ও সমাজে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয় যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। পরিবারে গড়ে উঠছে না নৈতিক মূল্যবোধের পরিবেশ। আলোচিত ঐশী মেয়েটির ঘটনা আমরা সবাই জানি যে নিজ হাতে নিজের মা-বাবাকে হত্যা করেছিল। কিছুদিন আগে কক্সবাজারে ঝর্ণা রশিদ নামে একটি মেয়ে প্রেমিককে নিয়ে বেড়াতে এসে অতিরিক্ত মাদক সেবন করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। দেশের প্রতিটি অফিস আদালতে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি হচ্ছে, বেশিরভাগ অপরাধ শিক্ষিত মানুষ দ্বারাই সংঘটিত হচ্ছে। কিন্তু কেন? কারণ তাদের মূলত নৈতিক শিক্ষার অভাব।
ধর্মীয় অনুশীলন, ধর্মের আদেশ-নির্দেশ মেনে চললে মানুষ পাপ বা অপরাধ থেকে মুক্ত থাকে। সব ধর্মেই পাপ না করার কথা বলা আছে। সুতরাং কোনো মানুষ যদি নিজ ধর্ম যথানিয়মে পালন করে সে অপরাধ থেকে বেঁচে থাকবে আর সমাজ অপরাধমুক্ত হবে। একটি শিশুকে ছোটকাল থেকেই যদি ধর্মীয় অনুশাসনে গড়ে তোলা যায়, সে বড় হয়ে ভালো মানুষ হবে সেটি আশা করা যায়। ধনী লোক হলেই কী সন্তানকে প্রশ্রয় দিয়ে মাথায় তুলতে হবে? তাকে কী নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার কোন দরকার নেই? এসব নিয়ে প্রত্যেক পিতা-মাতা, অভিভাবককে ভাবতে হবে। যে সন্তান নেশা আর অশ্লীলতার দিকে ঝুঁকবে সে সন্তান পরবর্তী সময়ে কাল হয়ে দাঁড়াবে। বড় হলে কোনোভাবেই তাকে আর নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। অর্থবিত্ত, সন্তান-সন্ততি মানুষকে অহংকারী করে তোলে আবার ভাল পথে চলার সুযোগও থাকে। দুটি পথের মাঝে ভালো পথটিই বেছে নিতে হবে নিজের জন্য, পরিবার ও সমাজের জন্য। ধর্মীয় অনুশাসন না থাকলে মানুষ বেপরোয়া হয়ে উঠে।
অধঃপতনের দিকে ধাবিত হওয়া এই সমাজকে সম্মিলিতভাবে রক্ষা করতে হবে, রক্ষা করতে হবে পরিবারকে, বাড়াতে হবে সচেতনতা, রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে অনৈতিকতা ও অশ্লীলতামুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে। এসব অপরাধের সাথে জড়িতদের শাস্তি দিতে কঠোর আইন করার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে হবে। উদ্যোগ নিতে হবে চরিত্র ধ্বংসকারী সব উপাদান, উপকরণ যেন মানুষের কাছে না পৌঁছে। ইন্টারনেটের সব অশ্লীল সাইট ও পেজ ব্লক করতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে প্রতিটি শ্রেণিতে নৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়কে বাধ্যতামূলক করতে হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের আচরণগত পরিবর্তন হবে। মসজিদ ও মক্তব ধর্মীয় উপাসনা কেন্দ্রীক ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাবেই অন্ধকার পথে পা বাড়ায় বলে অভিজ্ঞরা মনে করছেন।
একটি শিশুর প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে পারিবারিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আমরা বলেই থাকি ব্যবহারে বংশের পরিচয় কারণ সভ্যতা, ভদ্রতা, নৈতিকতা, কৃতজ্ঞতা বোধ, অপরের প্রতি শ্রদ্ধা-স্নেহ, পরোপকার, উদার মানসিকতা- এগুলো প্রাতিষ্ঠানিক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে খুব বেশি অর্জন করা যায় না। একাডেমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পড়ালেখা করে শিক্ষিত হওয়া যায়, মেধাবী হলে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে দেশের সীমানা পেরিয়ে ভিনদেশেও নাম কুড়ানো যায়; কিন্তু পরিবার থেকে সুশিক্ষা না পেলে এক সময় সব শিক্ষাই ম্লান হয়ে যাবে।
গ্রাম্য ভাষায় একটা প্রবাদ চালু আছে: থলি যদি ভালো হয়, তাহলে সেখানে ভালো কিছু থাকবে। আম যদি মিষ্টি হয়, তাহলে তার আঁটিও মিষ্টি হবে। অর্থাৎ আদর্শ পরিবারের সন্তান সুসন্তান হবে এটাই স্বাভাবিক। শিশু যখন নিজ থেকেই হাত-পা নাড়াতে শেখে, তখন
থেকেই মূলত সে পরিবারের বড়দের কাছ থেকে শিখতে শুরু করে। আর তখন থেকেই তার সামনে বাবা-মা তথা বড়দের কথাবার্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। বাড়ন্ত শিশুকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ভালো-মন্দ বিষয়ে অবহিত করতে হয়। তার সঙ্গে নরম সুরে, মার্জিত আচরণে বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করতে হয়। শিশুদের মন-মানসিকতা থাকে খুবই কোমল, তাই খুব সহজেই যে কোনো বিষয়ে তারা শিখে নিতে পারে। বড়দের কর্তব্য, আদর-স্নেহের মাধ্যমে বুঝিয়ে তাদের যে কোনো বদঅভ্যাস থেকে বিরত রাখা। কোনো অবস্থায়ই শিশুকে গালমন্দ করা যাবে না। তাই একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে সন্তানকে গড়ে তোলার জন্য পিতা-মাতা ও পরিবারের সদস্যদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্তানকে মাঝে মধ্যে কাছে কিংবা দূরে কোথাও প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিয়ে যেতে হবে। ভ্রমণেও শিশু অনেক কিছু শিখতে পারে। বর্তমান শহুরে সমাজে অনেক পরিবারের দুই অভিভাবকই থাকেন নিজ কর্মস্থলে ব্যস্ত। ফলে তাদের কাছ থেকে যতটুকু সময় সন্তানের প্রাপ্য তা থেকে সে বঞ্চিত। তাই কার্টুন ছবি দেখে আর মোবাইল-গেম খেলে শিশু সময় কাটায়। এতে তার মস্তিস্ক ধারণ করে যতসব উদ্ভট চিন্তা।
বাবা-মা’কে সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বসুলভ আচরণ করতে হবে। তাহলে সন্তান সবকিছুই বাবা-মা’র সঙ্গে শেয়ার করবে। যে সন্তান শেয়ার করতে শিখবে সে কখনও আদর্শহীন হবে না। ঘরের পরিবেশ ভালো বলেই যে সন্তান সভ্য, ভদ্র ও আদর্শবান হবে তা ঠিক নয়। সন্তান কাদের সঙ্গে মেশে ও বন্ধুত্ব করে সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে। মোটামুটি পাঁচ-ছয় বছর বয়স থেকেই শিশুর মধ্যে নিজস্ব সম্মানবোধ সৃষ্টি হয়। অবশ্যই ছোট থেকেই সন্তানের সামনে সুশিক্ষার বিষয়ে আলোচনা এবং তার মধ্যে তা চর্চার প্রচলন ঘটাতে হবে। শিক্ষিত হওয়ার জন্য যেমন একাডেমিক শিক্ষার প্রয়োজন, তেমনি সন্তানকে সুস্থ মানসিকতার ধারক-বাহক করার জন্য সভ্যতা-ভদ্রতা-নৈতিকতা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মতো মনের অধিকারী করে গড়ে তুলতে হবে। মোদ্দা কথা, বিচক্ষণ বাবা-মা বা অভিভাবকদের সন্তানরাই সমাজে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছে। পরিবারে যদি নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সন্নিবেশ ঘটে, তাহলে কোনদিনও সে পরিবারের সন্তান লম্পট আর খারাপ চরিত্রের অধিকারী হবে না।
অপসংস্কৃতি সংস্কৃতির নেতিবাচক রূপ। বিদেশি সংস্কৃতিগুলো আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিকে প্রায় গ্রাস করে ফেলছে, আমাদের যুবসমাজ বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি এতই ঝুঁকে পড়ছে দেশীয় সংস্কৃতি কী সেটি মনে হয় অনেকে ভুলে গেছে। আজ প্রতিটি কাজে, পোশাক-পরিচ্ছেদসহ সকল ক্ষেত্রে বিদেশি সংস্কৃতির আগ্রাসন। অথচ একটি জাতির শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের প্রধান মাপকাঠি হলো সে জাতির সংস্কৃতি। ব্যক্তির মানবীয় গুণাবলী ও জীবনযাত্রার মধ্য দিয়ে নিজ পরিবেশ ও সমাজকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করার যে প্রচেষ্টা তার মধ্যেই সুপ্ত থাকে সংস্কৃতির চেতনা। যে সংস্কৃতি মানুষের চিত্তকে কলুষিত করে মূল্যবোধের অবক্ষয় ডেকে আনে, নৈতিকতা বিনষ্ট করে তা-ই অপসংস্কৃতি। মানুষের মানবিক গুণাবলী লোপ করে, ধ্বংস করে। সুষ্ঠু মানবিক বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তারই অপর নাম অপসংস্কৃতি। সমাজে অপসংস্কৃতির প্রভাব মারাত্মক এবং অত্যন্ত ক্ষতিকর। সমাজ যখন ঐক্যবদ্ধভাবে একটি রাষ্ট্র গঠন করে তখন সেই জাতি ও তার সংস্কৃতি সেই রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে। আর তার প্রকাশ ঘটে দৈনন্দিন রীতি-নীতি, আচার-অনুষ্ঠান, শিক্ষা-সাহিত্য, শিল্প প্রভৃতিতে। ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক পরিবেশ, ধর্মীয় বিধি-বিধান, নৈতিক অনুশাসন, অর্থনৈতিক অবস্থা, শিক্ষা, দর্শন ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে এক একটি সংস্কৃতি। যে সংস্কৃতি মানুষের চিত্তকে কলুষিত করে, মূল্যবোধের অবক্ষয় ডেকে
আনে, নৈতিকতা বিনষ্ট হয় তা-ই অপসংস্কৃতি। অপসংস্কৃতি সংস্কৃতিরই বিকৃত রূপ। বাঙালির সংস্কৃতিতে রয়েছে সুপ্রাচীনকালের ঐতিহ্য। প্রাচীন বাংলার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল বাংলার পরিবেশ, প্রকৃতি ও সমাজ জীবনকে ঘিরে। দিন বদলের পালায় বিশ্বায়নের সুযোগে পাশ্চাত্যের অপসংস্কৃতি আবার চড়াও হয়েছে বাংলার চিরায়ত, কোমল সংস্কৃতির ওপর। বিদেশি জীবনযাপন চর্চা, পোশাক-পরিচ্ছদ, আচার-আচরণ অনুকরণ এখন বাঙালির কাছে আভিজাত্য প্রকাশের মাপকাঠি। সমাজ জীবন থেকে সুস্থ বিবেকবোধ আর সততা যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। আর বিনোদন মানে তো উৎকৃষ্ট সংগীত, উদ্যম নৃত্য রুচিহীন চলচ্চিত্র। সততা, মমতা আর বিবেকবোধ হারিয়ে গেলে সাম্রাজ্যবাদ বিস্তারের সুযোগ আরও ত্বরান্বিত হবে। মানুষ শোষণ আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে না।
অপসংস্কৃতি তারুণ্যের সুন্দর বিকাশের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবক্ষয় আর মাদক নেশার করাল গ্রাসে নিমজ্জমান তারুণ্য অনিশ্চিত ভবিষ্যতেরই প্রতিচ্ছবি। পাশ্চাত্যের উদ্ভট পোশাক-পরিচ্ছদে তরুণ সমাজ কথাবার্তায়,আচার আচরণেও হারাতে বসেছে বাঙালি ঐতিহ্য। বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোতেও লেগেছে অপসংস্কৃতির ছোঁয়া। নিজের স্বকীয়তা, মূল্যবোধ আর বিবেক বিসর্জন দিয়ে অপসংস্কৃতির দিকে ঝুঁকছে আজকের তারুণ্য। যে বাঙালি তরুণ সমাজের রয়েছে অন্যায় আর অনৈতিকতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের অসামান্য ঐতিহ্য, অপসংস্কৃতির কবলে পড়ে সেই তরুণ সমাজই আজ অনৈতিকতার অতল গহŸরে হারিয়ে যেতে বসেছে। সুন্দর জীবন যাপনের মধ্যেই সংস্কৃতি নিহীত। অসুন্দরভাবে বেঁচে থাকা অপসংস্কৃতির নামান্তর। বিশ্বের সংস্কৃতির ভালো দিক গ্রহণ ও মন্দ দিক বর্জন করেই আমাদের সংস্কৃতিকে পুষ্ট করতে হবে।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণআন্দোলন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন-ইতিহাসের সব প্রেক্ষাপটেই রয়েছে বাঙালির আত্মত্যাগ, বীরত্বগাঁথা, যুব সমাজের অবদান। আর এ ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে বাঙালি সংস্কৃতি। বাঙালি সংস্কৃতির লক্ষ্যই হলো দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক সংস্কৃতি ও মনোজাগতিক মুক্তি। এর ওপর অপসংস্কৃতি বিরূপ আগ্রাসন মানেই বাঙালি ঐতিহ্যকে পঙ্গু করে দেওয়া, সমূলে বিনষ্ট করা। তাই এর হাত থেকে তরুণ প্রজন্ম ও সমগ্র জাতিকে রক্ষা করার দায়িত্ব সকল বাঙালির। সংস্কৃতিবান জাতি হিসেবে অবশ্যই আমাদের সকলের লক্ষ্য হওয়া উচিত অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। তাই আমরা যদি একটি সুন্দর, সুস্থ, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে চাই তাহলে আমাদেরকে নৈতিক, ধর্মীয়, পারিবারিক শিক্ষা ও সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করতে হবে।
লেখক : প্রতিষ্ঠাতা ও উপাধ্যক্ষ- এশিয়ান আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বহদ্দারহাট, চট্টগ্রাম










