অবশেষে পৃথক সচিবালয় পেল সুপ্রিম কোর্ট

3

পূর্বদেশ ডেস্ক

বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অনুমোদনের ১০ দিনের মাথায় অবশেষে বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় স্থাপনের দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণের বিষয়ে এ অধ্যাদেশ এল। খবর বিডিনিউজের।
গতকাল রোববার রাতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ অধ্যাদেশ জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, এ অধ্যাদেশের ৭ ধারা বাদে বাকি সব ধারা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় স্থাপন সম্পন্ন এবং এটির কার্যক্রম পূর্ণরূপে চালু হওয়া সাপেক্ষে সরকার সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে এ অধ্যাদেশের ধারা ৭ এর বিধানাবলি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দিয়ে কার্যকর করবে।
অধ্যাদেশের ৭ ধারায় বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধান সংক্রান্ত কাজে রাষ্ট্রপতির পক্ষে প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে।
এর আগে গত ২০ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদ সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।
বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বতন্ত্রীকরণ নিশ্চিতকরণে প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট থেকে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাব আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে তা বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে সরকারের অনুমোদন পায়।
এ অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ দিনের আকাক্সক্ষা পূরণ হল।
ধারা ৭ এ যা আছে : ৭। সার্ভিস প্রশাসনের দায়িত্ব পালন। (১) সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় সার্ভিস প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হইবে। (২) সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় সার্ভিস সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সংক্রান্ত কাজে রাষ্ট্রপতির পক্ষে প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করিবে। (৩) সার্ভিস সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সংক্রান্ত কার্যাদি সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব কর্তৃক সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে সুপ্রীম কোর্টের সংশ্লিষ্ট কমিটির পরামর্শের জন্য উপস্থাপিত হইবে। (৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত কমিটির সদস্যগণ নির্ধারিত পদ্ধতিতে আপীল বিভাগের বিচারকগণ কর্তৃক মনোনীত হইবেন।
(৫) উপ-ধারা (২) এর বিধান সত্ত্বেও, আইন ও বিচার বিভাগ ও ইহার কার্যপরিধিতে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা এবং অন্য কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের দপ্তরে সার্ভিস সদস্যগণের পদায়ন বা বদলি সংক্রান্ত কার্যাদি এতদুদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী, সুপ্রীম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে, সম্পাদিত হইবে।

আলাদা সচিবালয়ের পূর্বাপর : বাংলাদেশে স্বাধীন বিচার বিভাগের দাবি কয়েক যুগ ধরে বিভিন্ন মহল থেকে করা হচ্ছিল। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও সভা-সমাবেশের মধ্যে ১৯৯৫ সালে বিসিএস বিচার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাসদার হোসেন ও তার সহকর্মীরা বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব থেকে মুক্ত করার দাবিতে মামলা করেন।
সেই মামলায় ১৯৯৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত রায় দেয়। সেই রায়ের ২৬ বছর পর বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় করার পদক্ষেপ গত ২০ নভেম্বর সরকারের অনুমোদন পায়।
এ অধ্যাদেশ পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলাজনিত বিষয়, ছুটির পাশাপাশি নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়োগের সব কিছু সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয় করবে।
উপদেষ্টা পরিষদের সভায় পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল কখন থেকে এই সিদ্ধান্তের পূর্ণ বাস্তবায়ন দেখা যাবে? – এমন প্রশ্নে বলেন, আশা করছি কয়েক মাসের মধ্যে উচ্চ আদালতের সচিবালয় সম্পূর্ণ কার্যকর হয়ে যাবে।