অনেক কিছুই বলা যাচ্ছে না সরকারি ‘সিক্রেসির’ কারণে

3

পূর্বদেশ ডেস্ক

কিছুই হচ্ছে না বলে ‘অনেকে যা বলছেন’, তার জবাবে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অনেক কিছুই বলা যাচ্ছে না সরকারি ‘গোপনীয়তার’ কারণে। দেশের অর্থনীতি ও আর্থিক খাতকে ‘ধ্বংসের কাছ থেকে রক্ষা করে স্বাভাবিক জায়গায়’ ফিরিয়ে আনতে বছরের বেশি সময় ধরে সরকারের চেষ্টার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
জাতীয় পর্যায়ে ডিআরইউর বর্ষসেরা বিশেষ প্রতিবেদনের জন্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে গতকাল রোববার অর্থ উপদেষ্টা বলেন, অনেকে টকশোতে বলছেন, কিছুই হচ্ছে না। অনেক কিছুই বলা যাচ্ছে না সরকারি সিক্রেসির (গোপনীয়তা) কারণে।
আগের সরকারের উন্নয়নের বিভিন্ন ‘ন্যারেটিভ’ আপনারা শুনেছেন। ‘গ্রোথ’ (প্রবৃদ্ধি) যেটা হয়েছে, তা ছিল বড় বড় মেগা প্রকল্প। প্রকল্পগুলো ‘মনুমেন্ট’ হয়েছে আসলে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে যে টানেল করা হল, বেশি গাড়ি যায় না। মেগা প্রকল্পের এলাকায় রেস্ট হাউস করা হয়েছে একশ-দুইশ কোটি টাকা দিয়ে। এইসব প্রকল্প ‘ন্যারেটিভে’ অনেক আসছে, কিন্তু এসব অর্থনৈতিক প্রকল্প মানুষের কতটা কাজে লাগছে? খবর বিডিনিউজের।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি গঠন করে, তাদের পর্যবেক্ষণ হল-বিগত এই সরকারের টানা দেড় দশকের শাসনামলে উন্নয়ন বাজেটের ৪০ শতাংশ অর্থ ‘তছরুপ’ বা ‘লুটপাট’ হয়েছে। এ অর্থ থেকে প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার বা এক লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা বিদেশে ‘পাচার’ হয়েছে বলেও কমিটির পক্ষ থেকে ধারণা দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের অগাস্টে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া সংস্কারের কার্যক্রম আগামী নির্বাচিত সরকারও অব্যাহত রাখবে, এমন প্রত্যাশার কথা বলেছেন সালেহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, এখন তো নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে সরকার। আগামী তিনটা মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী সরকার করবে, এমন অনেক ইস্যু আছে। আমরা মোটামুটি অর্থনীতিকে ধ্বংসের কাছ থেকে রক্ষা করে এনেছি। এখন আগামী সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এটাকে সুসংহত করা।
অর্থনীতির কাঠামোটা যেন ভালো হয়, তারা হয়ত কিছু সংযোজন করবে, কিছু বাদ দিবে। আমরা শুরুটা করেছি, এখন উত্তরসূরী সরকার এটাকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে।
সরকারের কর্মকাÐ নিয়ে বিভিন্ন টেলিভিশনের টক-শোতে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে সালেহউদ্দিন বলেন, আমি মাঝে মাঝে দেখি টকশোতে অনেকে বলেন, কিছুই তো দেখতে পেলাম না, ১২ মাসে কোন পরিবর্তন দেখতে পেলাম না, কী হয়েছে।
কিন্তু তারা জানেন না, আমরা গত বছরের আগস্ট মাসে যে অর্থনৈতিক অবস্থা পেয়েছে, তা জানলে তো আপনারা আঁতকে উঠবেন। হয়ত কোনোদিনই তা বলা যাবে না, কারণ সব তো স্টেট সিক্রেট (রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা)।
আমরা যদি দায়িত্ব না নিতাম, তাহলে দেশটা কোন অবস্থায় যেত তা সহজে অনুমান করা যায়।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে, আমদানি রপ্তানি বেড়ে অর্থনীতি সার্বিকভাবে মোটামুটি ভালো আছে বলে মন্তব্য করেন অর্থ উপদেষ্টা।