অতিথি পাখিদের দিয়ে নির্বাচন করা হলে ত্যাগীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হবে

3

কর্ণফুলী প্রতিনিধি

আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে না থাকা এবং দলের দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের খোঁজ-খবর না রাখা অতিথি পাখিদের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করা হলে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মামুন মিয়া।
গত মঙ্গলবার বিকেলে কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ক্রসিং মেগা কনভেনশন হলে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মীসভায় সভাপতির বক্তব্যে মামুন মিয়া এসব কথা বলেন।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য হাজী মো. ওসমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহব্বায়ক এহসান এ খাঁন।
এ সময় এস এম মামুন মিয়া আরও বলেন, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসন থেকে আগেও সরওয়ার জামাল নিজাম তিনবার দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু দলের কঠিন সময়ে তিনি মাঠে না থাকায় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এবার তিনিসহ অনেকে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে চ‚ড়ান্ত মনোনয়নে উনার নাম থাকলে তৃণমূলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে আমরা বিগত দিনের নির্বাচনের চেয়েও এবার আরও বেশি পরিশ্রম করে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করব।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ভাবনা ছিল- যারা দুঃসময়ে দল ছাড়েননি, পুলিশি হয়রানি, মামলা-মোকদ্দমা, নির্যাতন সহ্য করে থেকেছেন- তাদের নিয়েই নির্বাচনী কাজ শুরু করব। ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা পাশে ছিলেন, তাদের অবদান ভুলে গিয়ে একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত নেব না। দুঃসময়ের নেতা-কর্মীদের সিদ্ধান্তেই আমরা প্রচারণায় মাঠে নামব।
বিএনপি নেতা মামুন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের সময় সম্পর্কের রূপ এক রকম থাকে, পরে বদলে যায়। কর্ণফুলী বিএনপিকে বিভক্ত করতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু আমি চাই বিএনপি ঐক্যবদ্ধ থাকুক- আজকের বিশাল কর্মী সমাবেশই তার প্রমাণ। নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়। দুঃসময়ের নেতা-কর্মীরাই ঠিক করবেন, আমরা আগামিতে কীভাবে কাজ করব।
কর্মী সভায় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সালেহ জহুর, এস এম ফারুক হোসাইন, কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপি সাবেক যুগ্ম আহব্বায়ক আব্দুল গফুর মেম্বার, সোলায়মান দোভাষী, আব্দুল কাদের সুজন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আবু তৈয়ব কন্ট্রাক্টর, এজাবত উল্লাহ, মনছুর উদ্দীন, মো. সালাউদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি যথাক্রমে ইদ্রিস হায়দার, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব কামরুদ্দিন সবুজ, কাজী মঈন উদ্দীন টিপু, এটিএম হানিফ, শেখ আহমদ মেম্বার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে মো. আবু তাহের, মনির উদ্দিন মুন্সী, মো. সালাউদ্দিন, সেলিম খাঁন, বিএনপি নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর বিন হোসাইন, জসিম উদ্দিন জুয়েল, ওয়াসিম সওদাগর।
এছাড়াও দক্ষিণ জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক মামুনুর রশীদ, দক্ষিণ জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহব্বায়ক শফিউল করিম, মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য উম্মে মিরজান শামিম, কর্ণফুলী উপজেলা যুবদলের আহব্বায়ক মো. নুরুল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহব্বায়ক মো. ফারুক, উপজেলা কৃষক দলের সাবেক আহব্বায়ক আব্দুল মন্নান, সদস্য সচিব বাহারুল বাহার, উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. মনির উদ্দিন, যুবদল নেতা শওকত আলী প্রমূখ।
সভায় কর্ণফুলী উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন জুলধা, শিকলবাহা, বড়উঠান, চরপাথরঘাটা ও চরলক্ষ্যা থেকে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।