নিজস্ব প্রতিবেদক
নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেন মোড় এলাকায় কেডিএস গার্মেন্টসের পেছনে অবস্থিত একটি বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়লে বস্তির বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা গেছে, সকালে ঘটে যাওয়া এই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় কেডিএস গার্মেন্টসের পেছনে রেলবিটের পাশে লেদু হাজীর কলোনির তিনজন মালিকানাধীন পাঁচ লাইনের টিনশেড ঘরের ৫০টি কক্ষে আগুন লেগে যায়। আগুনের সূত্রপাত গ্যাসের চুলা থেকে হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩ লাখ টাকা এবং উদ্ধার করা সম্পদের পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
এ ঘটনায় বায়েজিদ ফায়ার স্টেশন থেকে ছয়টি ইউনিট পাঠানো হয়, যাদের মধ্যে বিশেষ পানিবাহী গাড়ি ছিল। এই গাড়ি থেকে চারটি লাইন দিয়ে সরাসরি আগুনে পানি নিক্ষেপ করা হয় এবং এক্সট্রা কল গাড়ির সাহায্যে কালুরঘাট ফায়ার স্টেশনের সহায়তায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশনও পথিমধ্যে থেকে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাধ্যমে স্টেশনে ফিরে আসে। এক ঘণ্টার মধ্যে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং কিছুক্ষণের মধ্যে পূর্ণ নির্বাপন সম্ভব হয়।
প্রাথমিক তদন্তের মাধ্যমে জানা গেছে, গ্যাসের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। আগুনের ফলে বস্তির তিনটি মালিকানাধীন ৫০টি কক্ষে ব্যাপক ক্ষতি হয়। তবে আহত বা নিহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন এবং প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে আগুনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসেন।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, ‘আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। প্রথমে পানির মাধ্যমে আগুন নিভানোর চেষ্টা করা হয় এবং পরে আগুনটি পুরোপুরি নির্বাপিত করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আগুনের শিকার অনেকেই ক্ষতির সম্মুখীন হলেও ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির কারণে অগ্নিকাÐটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নগরীতে বিভিন্ন বস্তির মধ্যে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে, যা প্রতিরোধে একাধিক কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার জন্য অগ্নিনিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আরও জানান, গ্যাসের চুলা থেকে আগুনের স‚ত্রপাত হওয়া একটি সাধারণ বিষয়, তবে এ ধরনের দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য মানুষকে আরও সচেতন হওয়া জরুরি।










