অক্টোবরেই চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী

1

নিজস্ব প্রতিবেদক

অক্টোবর মাসেই চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত এক মাসে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরে ১ হাজার ৪৩০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। তবে সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা কমেছে। অক্টোবরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯ জন। সর্বশেষ গত ২ দিনে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রাম ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ছিল ১১ জন। অক্টোবরের শুরুর দিকে টানা বৃষ্টির কারণে মশার প্রজনন বাড়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও ডেঙ্গুতে মৃত্যু কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের গত ১০ মাসের চট্টগ্রামের ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৩৫ জন। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ২৫ জনের। সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৩০ জন আক্রান্ত হয়েছে অক্টোবর মাসে। তবে চলতি বছরে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৩৩৭ জন। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসেও চট্টগ্রামে ২ হাজার ৭৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল। যা চলতি বছরের মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের ৭৯ দশমিক ৬২ শতাংশ।
অন্যদিকে গত দুই মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। যা চলতি বছরে মোট মৃত্যুর ৮০ শতাংশ। গত ১০ মাসের সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে সেপ্টেম্বর মাসে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্ষা মৌসুমে সাধারণত ডেঙ্গু বাড়ে, পরে তা কমে আসে। তবে এখন বর্ষার যে ধরন, তাতে মৌসুমের পরে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে বেশি বৃষ্টি হয়। আবার বর্ষা-উত্তরকালে চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশে ডেঙ্গু বিস্তারের উদাহরণও আছে। গত কয়েক বছর ধরে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসেই ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। গত দুই মাসেই চট্টগ্রামে ২ হাজার ৩৩৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২০ জন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলো এই সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমিয়ে আনা সম্ভব হতো।
সংশ্লিষ্টরা কর্মকর্তারা জানান, প্রতি বছরই জুলাই মাস থেকে সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। যেটি অক্টোবর পর্যন্ত থাকে। জুলাই থেকে চট্টগ্রামে রোগী বাড়তে শুরু করে। তবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে সেটি প্রকট আকার ধারণ করে। অক্টোবর শুরুর দিকে টানা কয়েকদিন বৃষ্টি থাকায় এডিস মশার প্রজনন বেড়ে যায়। ফলে ডেঙ্গুর আক্রান্ত রোগী বেড়ে যায়। তবে সিভিল সার্জন কার্যালয় ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচেতনতা কার্যক্রম এবং মশার প্রজনন ধ্বংসে অভিযানের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী পূর্বদেশকে বলেন, চলতি বছর বর্ষার শেষের দিকে টানা বৃষ্টি থাকায় অক্টোবরে সারাদেশের মতো ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। তবে মহানগর ও উপজেলায় আমাদের সচেতনতা কার্যক্রমের কারণে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা কমে এসেছে। পাশাপাশি আমরা জরিপের মাধ্যমে ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করেছি। পরবর্তীতে এসব ঝুঁিকপূর্ণ এলাকাসমূহে সিটি কর্পোরেশনে মাধ্যমে মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংসে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া গত ১৫ দিন যাবত চট্টগ্রামের কোথাও বৃষ্টি হয়নি। আমরা আশা করছি চট্টগ্রামের ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভালো দিকে যাবে।